চিপসের প্যাকেট অর্ধেক খালি থাকে কেন?
ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক রিলসে প্রায়ই একটি মজার সংলাপ শোনা যায়- টাকা দিয়ে হাওয়া কিনেছি, সঙ্গে কিছু চিপস ফ্রি পেয়েছি! কথাটি শুনে অনেকেই হাসেন। কারণ চিপসের প্যাকেট খুলে ভেতরে তুলনামূলক কম চিপস দেখে এমন অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই হয়েছে।
অনেকের ধারণা, বড় প্যাকেটে কম চিপস দিয়ে ক্রেতাদের ঠকানো হয়। বাস্তবে বিষয়টি পুরোপুরি তা নয়। প্যাকেটের ভেতরের ফাঁকা জায়গার পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ।
চিপসের প্যাকেটে সাধারণ বাতাস নয়, ভরা থাকে নাইট্রোজেন গ্যাস। এটি বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং নিষ্ক্রিয় একটি গ্যাস। আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই, তার প্রায় ৭৮ শতাংশই নাইট্রোজেন। এই গ্যাস খাবারের সঙ্গে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না।
চিপস অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে দ্রুত মুচমুচে ভাব হারিয়ে ফেলে এবং স্বাদও নষ্ট হতে শুরু করে। প্যাকেটের ভেতরে নাইট্রোজেন থাকার ফলে চিপস দীর্ঘ সময় টাটকা ও মুচমুচে থাকে।
এ ছাড়া উৎপাদন কারখানা থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত চিপসের প্যাকেটকে বহুবার পরিবহন ও স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এ সময় প্যাকেটের ভেতরের নাইট্রোজেনভর্তি ফাঁকা অংশ কুশনের মতো কাজ করে। এতে বাইরের চাপ অনেকটাই শোষিত হয় এবং চিপস ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
যদি প্যাকেট পুরোপুরি চিপসে ভর্তি করা হতো, তাহলে পরিবহনের সময় অধিকাংশ চিপসই ভেঙে যেত।
তবে বড় আকারের প্যাকেট ব্যবহার যে বিপণন কৌশলের অংশ নয়, তা-ও বলা যাবে না। বড় প্যাকেট দেখে অনেকের কাছে পণ্যের পরিমাণ বেশি মনে হয়। তবু প্যাকেটের ভেতরে নাইট্রোজেন ব্যবহার মূলত চিপসের মান, স্বাদ ও অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্যই করা হয়।
আরও পড়ুন: হাজার বছরের ঐতিহ্য নিয়ে আজ জাতীয় লিপস্টিক দিবস
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্যাকেটে যে ওজন উল্লেখ থাকে, সেই পরিমাণ চিপসই এতে থাকে। অর্থাৎ প্যাকেটের আকার বড় হলেও ক্রেতাকে ওজনের দিক থেকে কম দেওয়া হয় না।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








