লাইফস্টাইল ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:৫২, ২০ জুন ২০২৬

মাথাব্যথার সঙ্গে যেসব লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হবেন

মাথাব্যথার সঙ্গে যেসব লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হবেন

ছবি: সংগৃহীত

মাথাব্যথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ সমস্যা। কাজের চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা এবং মানসিক উদ্বেগের কারণে অনেকেরই মাঝেমধ্যে মাথাব্যথা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক এবং তেমন গুরুতর নয়।

তবে চিকিৎসকদের মতে, সব ধরনের মাথাব্যথাকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ কিছু ক্ষেত্রে মাথাব্যথা শরীরের ভেতরে থাকা জটিল রোগের পূর্বাভাস হতে পারে।

মাথাব্যথার সঙ্গে যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

মাথা ঘোরা ও ভারসাম্য হারানো
মাথাব্যথার সঙ্গে যদি মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, কানে অস্বস্তি বা চারপাশ ঘুরছে বলে মনে হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে এমন উপসর্গ বারবার দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক সময় মাইগ্রেনের রোগীদের মধ্যেও এসব লক্ষণ দেখা যায়।

চোখে ঝাপসা দেখা
মাথাব্যথার সঙ্গে চোখে ঝাপসা দেখা, আলোর ঝলকানি অনুভব করা বা দৃষ্টিশক্তির সাময়িক পরিবর্তন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হতে পারে। অনেকেই এটিকে ক্লান্তির ফল মনে করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে এটি স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে।

কথা বলতে অসুবিধা হওয়া
মাথাব্যথার পাশাপাশি কথা জড়িয়ে যাওয়া, কথা বলতে অসুবিধা হওয়া, শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যাওয়া বা দুর্বলতা অনুভব করা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

জ্বর, বমি ও ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
মাথাব্যথার সঙ্গে জ্বর, বমি, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা তীব্র অস্বস্তি থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। একইভাবে দীর্ঘদিনের পরিচিত মাথাব্যথার ধরন বা তীব্রতা হঠাৎ পরিবর্তিত হলেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

সাধারণ মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের পার্থক্য
মাইগ্রেন শুধু মাথাব্যথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে বমিভাব, আলো ও শব্দের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা, মাথা ঘোরা এবং দৃষ্টিগত পরিবর্তনের মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। গবেষকদের মতে, মস্তিষ্কের কিছু স্নায়বিক পরিবর্তনের কারণে মাইগ্রেনের আক্রমণ হতে পারে।

মাথাব্যথার সাধারণ কারণ
মাথাব্যথার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে- অতিরিক্ত মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার, খাবারের অনিয়ম, উজ্জ্বল আলো ও উচ্চ শব্দ, কিছু নির্দিষ্ট খাবার বা পানীয়. 

তবে প্রত্যেক মানুষের ক্ষেত্রে কারণ ভিন্ন হতে পারে। তাই কোন পরিস্থিতিতে মাথাব্যথা বাড়ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: কোন বাদাম স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি

মাথাব্যথা কমাতে করণীয়
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বারবার ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে সমস্যাকে চাপা না দিয়ে এর মূল কারণ খুঁজে বের করা উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ অনেক ক্ষেত্রেই মাথাব্যথা কমাতে সহায়তা করে।

এ ছাড়া কখন মাথাব্যথা হচ্ছে, কতক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ আছে কি না তা লিখে রাখলে চিকিৎসকের জন্য রোগ নির্ণয় সহজ হয়।

মাথাব্যথা সব সময় গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। তবে এর সঙ্গে অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ যুক্ত হলে, ব্যথা হঠাৎ তীব্র হয়ে উঠলে বা আগের তুলনায় ভিন্ন ধরনের মনে হলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়