স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৩৩, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ফাইনালে যেতে বাংলাদেশের সামনে যে সমীকরণ

ফাইনালে যেতে বাংলাদেশের সামনে যে সমীকরণ

ফাইল ছবি

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে বাংলাদেশের সামনে এখন কঠিন পরীক্ষার নাম আফগানিস্তান। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল টাইগারদের। তবে আফগানিস্তানের কাছে জিম্বাবুয়ের ১৫৮ রানের বিশাল পরাজয়ে নতুন করে সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে আগামী ২১ অক্টোবর নিজেদের শেষ লিগ ম্যাচে শুধু জয় পেলেই চলবে না, প্রতিপক্ষকে হারাতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবধানে অথবা রান তাড়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ওভারের মধ্যে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে জয়-পরাজয়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নেট রান রেটের হিসাব।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান তিন দলের এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচে ১৭ অক্টোবর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ফলে ৯৯ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। ওই হারে বাংলাদেশের নেট রান রেট নেমে যায় -১.৯৮০-এ। এরপর ১৯ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই ব্যর্থ হয় জিম্বাবুয়ে। সেদিন প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ২৯৪ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। সেদিকুল্লাহ আতালের ১০২ ও ইব্রাহিম জাদরানের ৯০ রানের ইনিংস দলটিকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়। জবাবে রশিদ খানের চার উইকেটের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৩৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। ১৫৮ রানের এই জয় আফগানিস্তানকে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্যও হিসাব মেলানোর সুযোগ তৈরি করেছে। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে তিন দলেরই ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও অবস্থান সমান নয়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের বড় পরাজয় এবং আফগানিস্তানের বিশাল জয় নেট রান রেটের ব্যবধানকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২১ অক্টোবরের ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারাতে পারলে বাংলাদেশের পয়েন্ট বাড়বে, কিন্তু সেই জয় ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করবে কি না, তা নির্ভর করবে দুই দলের রান রেটের হিসাবের ওপর। তাই টাইগারদের জন্য লক্ষ্য থাকবে যতটা সম্ভব বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেওয়া। অন্যদিকে আফগানিস্তান জয় পেলে তাদের ফাইনালের পথ আরও সহজ হবে। বাংলাদেশকে হারলেও রান রেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা থাকবে আফগানদের।

আরও পড়ুন: জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর জরিমানার মুখে বাংলাদেশ

সমীকরণ অনুযায়ী, বাংলাদেশ আগে ব্যাট করলে আফগানিস্তানকে অন্তত ৪১ রানে হারানোর লক্ষ্য সামনে রাখতে হবে। তবে ব্যবধানের হিসাব এখানেই শেষ নয়। বাংলাদেশের জয়ের ব্যবধান ৪১ থেকে ২১৬ রানের মধ্যে থাকলে জিম্বাবুয়ের ফাইনালে ওঠার পথ বন্ধ হয়ে যাবে এমন হিসাব সামনে এসেছে। বিপরীতে বাংলাদেশ ৩৯ বা তার কম রানে জিতলে জিম্বাবুয়ের সম্ভাবনা টিকে থাকবে। আবার বাংলাদেশের জয়ের ব্যবধান ২১৮ রান বা তার বেশি হলেও জিম্বাবুয়ের ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকতে পারে। ফলে বাংলাদেশের জয় কত বড় হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে জিম্বাবুয়ের টুর্নামেন্টে টিকে থাকার সম্ভাবনাও। তবে এই ব্যবধানগুলোকে চূড়ান্ত সমীকরণ হিসেবে ধরার আগে সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক পয়েন্ট তালিকা ও নেট রান রেটের হিসাব মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করলে পরিস্থিতি হবে ভিন্ন। সে ক্ষেত্রে শুধু লক্ষ্য অতিক্রম করলেই হবে না, নির্ধারিত ওভারের মধ্যে রান তাড়া করে জিততে হবে। উদাহরণ হিসেবে, আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ২৫০ রান করলে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়াবে ২৫১। ফাইনালে ওঠার জন্য প্রযোজ্য রান রেটের সমীকরণ অনুযায়ী, সে ক্ষেত্রে ৪১.৩ ওভারের মধ্যে জয় নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে ২০০ রানের লক্ষ্য পেলে ৪০.২ ওভার, ২২০ রানের লক্ষ্য পেলে ৪০.৫ ওভার এবং ২৪০ রানের লক্ষ্য পেলে ৪১.১ ওভারের মধ্যে জয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে। বড় লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ম্যাচ শেষ করাই হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। লক্ষ্য পূরণে দেরি হলে ম্যাচ জিতেও ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেস্তে যেতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ব্যাটিং কৌশল, উইকেট ধরে রাখার সক্ষমতা এবং রান তোলার গতি হবে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক। আগে ব্যাট করলে বড় সংগ্রহ গড়ে বোলারদের জন্য প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার সুযোগ তৈরি করতে হবে। আর রান তাড়া করতে নামলে শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় রান রেট মাথায় রেখে ইনিংস সাজাতে হবে। দ্রুত উইকেট হারিয়ে ফেললে যেমন লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে, তেমনি অতিরিক্ত সতর্ক ব্যাটিংও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জয় পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আফগানিস্তানের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে তাই বাংলাদেশের ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ও কার্যকর ক্রিকেট খেলতে হবে।

সব মিলিয়ে ২১ অক্টোবরের বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচটি হয়ে উঠেছে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার নির্ণায়ক লড়াই। বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ কঠিন হলেও জিম্বাবুয়ের বড় পরাজয় নতুন করে সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে শুধু জয়ের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামলেই চলবে না; প্রতিটি রান, প্রতিটি ওভার এবং প্রতিপক্ষকে কত ব্যবধানে হারানো যাচ্ছে, সেদিকেও রাখতে হবে সতর্ক নজর। ২৩ অক্টোবরের ফাইনালে জায়গা করে নিতে টাইগারদের এখন জয় ও রান রেট দুই পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হতে হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়