স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৪১, ২১ জুন ২০২৬

ব্যাটিং ধস, অজিদের কাছে টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

ব্যাটিং ধস, অজিদের কাছে টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

মিরপুরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে বন্দরনগরীতে এসে সেই আত্মবিশ্বাস যেন নিমিষেই উবে গেল স্বাগতিকদের। প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচেও ব্যাটিং বিপর্যয়ের কবলে পড়ে বাংলাদেশ। রবিবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমীন স্টেডিয়ামে (যা মতিউর রহমান স্টেডিয়াম হিসেবেও পরিচিত) সফরকারী অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করল।

ম্যাচটি ছিল আগের দুই ম্যাচের মতোই ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে, যেখানে প্রথম দুই ম্যাচের রান ছিল দুইশ’র কাছাকাছি। অথচ টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছিল কে কত দ্রুত সাজঘরে ফিরতে পারে! শীর্ষ সারির ব্যাটসম্যানদের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২২ রান তুলতে সক্ষম হয়। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলার স্পেন্সার জনসনের হাত ছুঁয়ে স্টাম্পে আঘাত করলে দুর্ভাগা তানজিদ হাসান ৫ রানে রান আউটের শিকার হন। সেই একই ওভারে বাজে শট খেলে ১ রানে ফেরেন সাইফ হাসান। তিনে নামা পারভেজ হোসেন ইমন ১৩ বল খেলে মাত্র ১ রান করে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে ১০ বা তার বেশি বল খেলে সবচেয়ে কম রানের লজ্জার রেকর্ড গড়েন।

এরপর আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন নুরুল হাসান সোহান (৬), শামীম হোসেন পাটোয়ারি (০), রিশাদ হোসেন (১৬), নাসুম আহমেদ (০) ও শরিফুল ইসলাম (৭)। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মিছিলে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দেওয়া হৃদয় ৫১ বলে ৩টি করে চার ও ছক্কায় অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংস খেলেন। তার এই লড়াইয়ের সুবাদেই বাংলাদেশ কোনোমতে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রানের পুঁজি সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বাঁহাতি পেসার স্পেন্সার জনসন দুর্দান্ত বোলিং করে ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন, যা টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে কিপটে বোলিংয়ের রেকর্ড। এছাড়া অ্যাডাম জ্যাম্পা ও ন্যাথান এলিস ২টি করে উইকেট লাভ করেন।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

১১০ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া যেন টি-টোয়েন্টি নয়, বরং ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট করেছে। ওপেনিংয়ে অধিনায়ক মিচেল মার্শ ও জশ ইংলিস শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন। মার্শ মাত্র ২৭ বলে ৬০ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে বাংলাদেশের ম্যাচ থেকে ফেরার সব আশা শেষ করে দেন। জশ ইংলিস ১৭, কুপার কনোলি ১৫ এবং টিম ডেভিড ৩ বলে অপরাজিত ১২ রান করলে সফরকারীরা মাত্র ১১ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাসুম আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট নিলেও তা পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।

পুরো সিরিজের অসামঞ্জস্যপূর্ণ পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা দিয়েছে। সিরিজজুড়ে ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার দায়ভার পুরো দলের ওপরই বর্তায়। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন রেকর্ড গড়া স্পেন্সার জনসন এবং সিরিজ সেরা হয়েছেন ম্যাট রেনশ। এই সিরিজের ইতি টানার পরপরই বাংলাদেশ দলের সামনে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ জিম্বাবুয়ে সফর। আগামী রোববার হারারেতে শুরু হতে যাওয়া টেস্ট ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ দলের নতুন মিশন শুরু হবে। টি-টোয়েন্টির এই ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশ দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়