নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৫৪, ১৫ আগস্ট ২০২৬
আপডেট: ১৮:৫৬, ১৫ আগস্ট ২০২৬

১৮ বছরের জঞ্জাল ৫ মাসে পরিষ্কার সম্ভব নয়: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

১৮ বছরের জঞ্জাল ৫ মাসে পরিষ্কার সম্ভব নয়: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

গত ১৮ বছরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে গুম, খুন ও নির্যাতনের কবলে পড়া পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে একটি নতুন অধিদপ্তর গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। 

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। 

বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিশদ আলোকপাত করেন।

মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, বিগত সরকারের সময় দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী আচরণের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের গেজেটভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। একইসঙ্গে এসব পরিবারের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় একটি নতুন অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রকৃত ভূমিকা রেখেছেন অথচ গেজেটভুক্ত হতে পারেননি, তাদের জন্য আবেদনের সুযোগ পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে। 

এছাড়া, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক পরিচয় বা বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে যেসব প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, সরকার তাদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বর্তমান গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটকে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদী জঞ্জাল হিসেবে আখ্যায়িত করে মন্ত্রী বলেন, মাত্র পাঁচ মাসে ১৮ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। 

আরও পড়ুন: শিক্ষকদের ঘুষ দিতে হলে জাতি হিসেবে দীনতা প্রকাশ পায়: প্রধানমন্ত্রী

তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মহল সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা করছে, যা বাস্তবসম্মত নয়। সরকার দেশের অর্থনীতি বিনির্মাণে তারেক রহমানের নির্দেশনায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। 

মন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, লবিং, গ্রুপিং ও দলাদলি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অভ্যন্তরীণ কোনো মতভেদ থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে।

প্রয়াত খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আহমেদ আজম খান বলেন, খালেদা জিয়া জীবিতকালে যেমন ইতিহাস ছিলেন, মৃত্যুর পরও তিনি অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন। তার জনপ্রিয়তা এবং জনগণের প্রতি তার দায়বদ্ধতা পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। 

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র বিনির্মাণে যারা নেতৃত্বের সুযোগ পেয়েছিলেন, তাদের অনেকেই নিন্দিত হয়ে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান নিজের জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন এবং ভগ্নপ্রায় বাহিনীকে সুসংগঠিত করেছেন, যা তাকে মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। 

তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি একজন অভিভাবক হিসেবে নেতাকর্মীদের মায়ের মতো স্নেহ করেছেন। জেলখানায় থাকা অবস্থায় নিজের মা হারানোর শোকের সঙ্গে খালেদা জিয়ার মা হারানোর শোকের যে সাদৃশ্য ছিল, তা তাদের সম্পর্কের এক অনন্য আবেগীয় দিক তুলে ধরে।

বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশীতা, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাছের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন খান মিলনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা। 

বক্তারা বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নির্যাতিত পরিবারগুলোর এই মূল্যায়ন জাতিগতভাবে একটি সময়োপযোগী এবং ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত। অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়