১৬ বছর পর পিলখানা মামলার আসামি শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতারা
ফাইল ছবি
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত পিলখানা হামলা ও বিডিআর হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে।
এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মির্জা আজমসহ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী একাধিক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে নতুন করে আসামি করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি (স্পেশাল পিপি) বোরহান উদ্দিন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, এই নতুন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮শ’ জন। সাক্ষী হিসাবে ১২০০ জনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৩০০ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের বিবরণে উঠে এসেছে এই রাজনৈতিক নেতাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার বিষয়।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানার সুরক্ষিত সীমার ভেতরে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর বিচারিক আদালত ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর রায় প্রদান করেন। রায় অনুযায়ী, ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ২৮৩ জন খালাস পান।
আরও পড়ুন: হাসিনাকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা এখনো সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কয়েকশ’ আসামি জামিন পেয়েছেন। তবে একই সময়ে এই মামলায় নতুন চার্জশিটে উচ্চপদস্থ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আদালত এখনো তাদের জামিন অনুমোদন দেয়নি।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মামলা পরিচালনার ফলে তারা ক্লান্ত। এছাড়া দীর্ঘসূত্রি বিচার প্রক্রিয়ার কারণে হতাশ নিহতদের পরিবারও অসন্তুষ্ট। আইনজীবী পারভেজ হোসাইন বলেন, “হত্যা মামলায় যারা খালাস পেয়েছেন, বিস্ফোরক মামলায় একই আসামির অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তারা এখনও জামিন পাননি। এটি আইনি জটিলতা আরও বাড়িয়েছে।”
মামলাগুলো কখন চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে তা এখনও অজানা। তবে প্রসিকিউশন জানিয়েছে, নতুন চার্জশিটের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যুক্ত হয়েছে, যা মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও বিস্ফোরক মামলার এই নতুন পর্যায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, ধৈর্য ও আইনি জটিলতার মধ্য দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ এবং নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবাররা ন্যায়বিচারের পথে তাকিয়ে রয়েছেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








