ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফা চুক্তি প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ অবসানে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ খসড়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে মোট ১৪টি দফা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। তিনি নিজেও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
সমঝোতা স্মারকের উল্লেখযোগ্য দফাগুলো হলো-
১. যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করবে। উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, সামরিক পদক্ষেপ, হুমকি বা শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেছে। একই সঙ্গে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
২. উভয় দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার করেছে।
৩. সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। পারস্পরিক সম্মতিতে এ সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
৪. সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌঅবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পূর্ণ তুলে নেবে। পাশাপাশি চূড়ান্ত চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
৫. ইরান পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও বাধামুক্ত রাখতে কাজ করবে। হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবাবিষয়ক আলোচনায় ওমানের সুলতানাতের সঙ্গে কাজ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
৬. ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রণয়নে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
৭. চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে জাতিসংঘ, আইএইএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা হবে।
৮. ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও সংশ্লিষ্ট উপাদান নিষ্পত্তিতে আইএইএর তত্ত্বাবধানে একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরির বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
৯. চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকবে। এ সময়ে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা অপরিবর্তিত রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা বা অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন থেকে বিরত থাকবে।
১০. মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং, বীমা ও পরিবহন সেবার জন্য প্রয়োজনীয় ছাড় ও অনুমোদন দেবে।
১১. ইরানের অবরুদ্ধ বা জব্দকৃত তহবিল ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদান করবে যুক্তরাষ্ট্র।
১২. সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির শর্ত পালনের বিষয়টি তদারকির জন্য একটি যৌথ নির্বাহী ব্যবস্থা গঠন করা হবে।
১৩. ১, ৪, ৫, ১০ ও ১১ নম্বর দফার বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পর অন্যান্য বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ইরান পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা
১৪. চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








