News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৩৯, ৮ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে মার্কিন সেনা বন্দির দাবি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে মার্কিন সেনা বন্দির দাবি ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ছয়জন আমেরিকান সেনা নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন মিনেসোটা রাজ্যের বাসিন্দা মা, একজন আইওয়া কলেজের শিক্ষার্থী এবং একজন ফ্লোরিডার নাগরিক আছেন, যাকে তার পরিবার ‘জীবনের উৎসব’ হিসেবে স্মরণ করছে। নিহতরা সবাই আইওয়ার ডেস ময়েনসের ইউ.এস. আর্মি রিজার্ভ ইউনিটের সদস্য ছিলেন।

পেন্টাগনের বরাতে জানা গেছে, স্যাক্রামেন্টো, ক্যালিফোর্নিয়ার ৫৪ বছর বয়সী চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার রবার্ট এম. মারজান কুয়েতের ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তার আনুষ্ঠানিক শনাক্তকরণ মেডিকেল এক্সামিনারের মাধ্যমে করা হবে। ইউ.এস. আর্মি সাধারণত কোনো নিহত সদস্যের নাম প্রকাশ করে না যতক্ষণ না তাদের নিকটতম আত্মীয়দের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা জানানো হয়। 

আর্মি সচিব ড্যানিয়েল ড্রিসকোল বলেন, এই সব নারী ও পুরুষ দেশকে রক্ষা করার জন্য সাহসিকতার সঙ্গে স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছেন এবং তাদের ত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না।

অন্যদিকে ইরান কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে সংঘাতের এক সপ্তাহের মাথায় কয়েকজন আমেরিকান সৈন্যকে তারা বন্দী করেছে। 

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টে উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আমাদের হাতে বন্দি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে তারা নিহত হয়েছে, কিন্তু সত্য দীর্ঘদিন লুকানো যাবে না।

আরও পড়ুন: সৌদিতে ড্রোন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো ইরান

যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা টিম হকিন্স বলেন, ইরান বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে মার্কিন সামরিক কমান্ড সেন্টকমও এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা প্রচারণা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক অভিযানকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে চিহ্নিত করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা কুয়েতের একটি বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। তাঁদের মরদেহ ডেলাওয়ারের ডোভার বিমানঘাঁটিতে নেওয়া হয়েছে।

একই সময়ে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘর্ষে প্রায় ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি স্কুলে প্রায় ১৮০ শিশু নিহত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বন্দি করার দাবি সত্য হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন পর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারে। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই সংঘাতের মধ্য দিয়ে ইতিমধ্যেই মানবিক, সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে। নিহত ও আহতদের পরিবার, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত নজরদারিতে রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়