News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:৪৬, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

নাইজেরিয়ার মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে নিহত অন্তত ৫, আহত ৩৫

নাইজেরিয়ার মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে নিহত অন্তত ৫, আহত ৩৫

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বর্নো প্রদেশে একটি জনাকীর্ণ মসজিদে সন্ধ্যার নামাজ চলাকালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। 

স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নাগাদ মুসল্লিরা যখন মাগরিবের নামাজের জন্য জড়ো হয়েছিলেন, তখন মসজিদের ভেতর বোমাটি বিস্ফোরিত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

হামলার সময় বর্নোর রাজধানী মাইদুগুরির গাম্বোরু মার্কেট এলাকার মসজিদে মুসল্লিরা মাগরিবের নামাজের জন্য জড়ো ছিলেন। বিস্ফোরণের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে। তবে হামলার দায় এখনও কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। কর্তৃপক্ষ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে বিস্ফোরণের পর মার্কেট এলাকা ধুলাবালি ও ধোঁয়ায় ঢাকা এবং মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে ছুটোছুটি করছে। প্রত্যক্ষদর্শী মুসা ইউশাউ জানিয়েছেন, তিনি বহু আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হতে দেখেছেন।

হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুনা ইউসুফ অন্তত আটজন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন। অপরদিকে স্থানীয় মিলিশিয়া নেতা বাবাকুরা কলো নিহতের সংখ্যা সাত বলে দাবি করেছেন। সরকারি সূত্রের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: তুরস্কে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে লিবিয়ার সেনাপ্রধানসহ ৫ জন নিহত

মাইদুগুরি শহর দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি সংগঠন বোকো হারাম এবং তাদের সহযোগী ইসলামিক স্টেট পশ্চিম আফ্রিকা প্রদেশ (আইএসডব্লিউএপি)-এর সহিংসতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বোকো হারাম ২০০৯ সাল থেকে বর্নো প্রদেশে ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে আসছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে এই সংঘাতে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সহিংসতার প্রভাব শুধু নাইজেরিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়; পার্শ্ববর্তী নাইজার, চাদ ও ক্যামেরুনের সীমান্তবর্তী এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে।

মাইদুগুরি একসময় নিয়মিত গোলাগুলি ও বোমা হামলার সাক্ষী ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শহরটিতে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় সহিংসতা আবারও বাড়তে পারে বলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পুলিশ মুখপাত্র নাহুম দাসো জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পরপরই বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তিনি জানান, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু মানুষ এটিকে আত্মঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে অন্যান্য সূত্রের মতে, এটি মসজিদের মধ্যে রাখা বোমার কারণে ঘটেছে। ঘটনাস্থলে গিয়েই উদ্ধারকাজ চালানো হয়, এবং নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

মাইদুগুরির এই হামলাটি শহরের ২০২১ সালের পর থেকে সবচেয়ে বড় সহিংস ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযান ও নিরাপত্তা জোরদার সত্ত্বেও জিহাদি গোষ্ঠীগুলো এখনও প্রাণঘাতী হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়