News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:২৫, ৬ মার্চ ২০২৬

তেলের দামের চেয়ে সামরিক অভিযানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ: ট্রাম্প

তেলের দামের চেয়ে সামরিক অভিযানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রধান সমুদ্র পথ। ইতোমধ্যে প্রণালিতে অবস্থানরত ছয়টি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ প্রায় স্থবির। 

চলমান এই সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার মাঝে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি বন্ধ এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম বৃদ্ধি নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি তার কাছে বড় কোনো উদ্বেগের বিষয় নয়। তেলের দামের চেয়ে ইরানে চলমান সামরিক অভিযান সফল করা তার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 

বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে দাম দ্রুতই কমে যাবে। তাই গ্যাসের দাম যদি বাড়ে, বাড়ুক; এই সামরিক অভিযান তেলের দাম সামান্য বাড়ার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 

ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিকভাবে চালু হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হবে এবং এ পরিস্থিতি খুব শিগগিরই স্বাভাবিক হবে।

তিনি জানান, ইরানের নৌবাহিনী এখন সমুদ্রের তলদেশে পাঠানো হয়েছে। আমি খুব কাছ থেকে হরমুজ প্রণালী পর্যবেক্ষণ করছি। ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চলাকালীন সময়সীমা নিয়ে পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি জানিয়েছেন, লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

আরও পড়ুন: ইরানি নাবিকদের নিরাপদ আশ্রয় দিলো শ্রীলঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে চলমান উত্তেজনার কারণে তেলের দাম বাড়তে থাকলে এটি আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তুষ্ট। তাই গ্যাসের দাম দীর্ঘমেয়াদে বৃদ্ধি পেলে কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ট্রাম্পের দলের জন্য কঠিন হতে পারে।

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। চিফ অব স্টাফ সুজি ইউলস এবং জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রিট তেল কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। 

সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ বৈঠকে সতর্ক করা হয়েছে, জ্বালানি দামের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক প্রভাব “বিপর্যয়কর” হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারেও তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দামও গত এক সপ্তাহে ২৭ সেন্ট বেড়ে প্রতি গ্যালন ৩.২৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৫-২৭ সেন্ট বেশি।

বেশ কিছু জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিতকেই দীর্ঘমেয়াদে মূল সমাধান হিসেবে দেখছেন। যদিও কিছু কৌশলগত তেল মজুত ব্যবহার বা জ্বালানি কর সাময়িকভাবে কমানোও হোয়াইট হাউসের আলোচনার অংশ, তবে প্রশাসন আপাতত সামরিক পরিস্থিতিকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়