News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:১৮, ৩ মার্চ ২০২৬

এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে কড়া নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের

এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে কড়া নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) সকাল ১০টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো পুনরায় তদন্ত করে হালনাগাদ তালিকা প্রণয়ন, ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে নকল প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন। 

সভায় সকল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা–২০২৬-এর সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে বলেন, পূর্বে চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো পুনরায় তদন্ত করে একটি আপডেটেড তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। পরীক্ষায় যে কোনো ধরনের অনিয়ম ও নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে নকল ঠেকাতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীদের যথাযথভাবে বডি সার্চ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন এবং শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে নকল প্রতিরোধ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরীক্ষা চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন কিংবা প্রশ্নসংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট আপলোড হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আরও পড়ুন: অনুমতিহীন পেশায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শিক্ষামন্ত্রী

মন্ত্রী বলেন, মেধাভিত্তিক জাতি গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে পরীক্ষার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। “অটোপাসের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না”- এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় গড় নম্বর দেওয়ার প্রচলিত প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এছাড়া তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এমনকি পরীক্ষা কেন্দ্রের টয়লেটেও নকল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হবে। নকল প্রতিরোধে দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় মোটিভেশনাল মিটিং আয়োজনের কথাও জানান তিনি।

সভায় মন্ত্রী যেসব জেলায় জিলা স্কুল নেই, সেখানে নতুন জিলা স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। প্রস্তাবিত এসব প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের ব্যবস্থা থাকবে উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের আদলে যা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করবে বলে তিনি মত দেন।

এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান দায়িত্ব গ্রহণের পর পরীক্ষাব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুনভাবে কাজ শুরু হয়েছে। অতীতে গণমাধ্যমের সহযোগিতায় নকল প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি এবারও সবার সহযোগিতা কামনা করেন। 

তিনি জানান, ২১ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত রয়েছে; প্রশ্নপত্র ইতোমধ্যে প্রস্তুত হলেও তাতে কোনো ত্রুটি আছে কি না তা যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত। কেন্দ্র ও ভেন্যু পরিবর্তনসহ পরীক্ষাব্যবস্থাপনায় পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সভা শেষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়