News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:১৭, ১৮ মার্চ ২০২৬
আপডেট: ২০:১৭, ১৮ মার্চ ২০২৬

সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় নিহত ২, নিখোঁজ ৩

সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় নিহত ২, নিখোঁজ ৩

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। 

বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে দুই লঞ্চের ভয়াবহ সংঘর্ষ ও ধাক্কায় অন্তত দুজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং পানিতে ডুবে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত তিনজন। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ‘জাকির সম্রাট-৩’ নামক একটি লঞ্চের বেপরোয়া গতির কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে সদরঘাট টার্মিনালে ঢাকা-ইলিশা (ভোলা) রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চে কেরানীগঞ্জ থেকে ট্রলার বা নৌকা যোগে যাত্রীরা পেছনের দিক দিয়ে উঠছিলেন। এসময় ‘জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চটি দ্রুত গতিতে টার্মিনাল ত্যাগ করার সময় ট্রলার ও অবস্থানরত লঞ্চটিকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দেয়। দুই লঞ্চের মাঝখানে পড়ে এবং ট্রলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে সোহাগ (২২) নামে এক যুবকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন রেবা (২০) (মতান্তরে রেশমা আক্তার) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল তাকে রক্তাক্ত ও ট্রমাটাইজড অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভর্তি করেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া আরও অন্তত দুজন আহত যাত্রী একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আরও পড়ুন: ট্রেন দুর্ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ

লঞ্চের ধাক্কায় নৌকাটি ডুবে যাওয়ায় বেশ কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যান। নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশের একাধিক টিম। 

সদরঘাট নৌ পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহাগ রানা জানান, এখন পর্যন্ত অন্তত দুইজন নিখোঁজ থাকার তথ্য তারা নিশ্চিত হয়েছেন, তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী এই সংখ্যা তিনজন বা তার বেশি হতে পারে। নিখোঁজদের সন্ধানে রাত পর্যন্ত তল্লাশি অব্যাহত ছিল।

ঘটনার পরপরই ঘাতক লঞ্চ ‘জাকির সম্রাট-৩’ দ্রুত টার্মিনাল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ একজনের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সদরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী সজীব আহমেদ বলেন, আহত অন্তঃসত্ত্বা নারীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নৌ পুলিশ জানিয়েছে, লঞ্চ দুটির চালক বা সংশ্লিষ্টদের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্ঘটনার পর টার্মিনালে সাময়িক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঈদযাত্রা অব্যাহত আছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়