রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন বৈধ
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও কার্যক্রম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং নির্বাচনী কর্তা হিসেবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি পদে জমা হওয়া মনোনয়নপত্রগুলোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং প্রধান বিরোধী জোটের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নির্বাচন ভবনের সিইসির সভাকক্ষে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দেন। মির্জা ফখরুলের পক্ষে দলের পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। প্রচলিত নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, একটি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্যটি বাতিল হয়ে গেছে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় নির্বাচন ভবনে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ও উচ্চপর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতার জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার দলীয় পদ ও সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
আরও পড়ুন: ছয় মাসেই মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল
অন্যদিকে, সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্রও এই বাছাই প্রক্রিয়ায় বৈধ বলে গৃহীত হয়েছে। কর্নেল অলি আহমদের নামেও দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে একটি বৈধ ঘোষণা করায় নিয়ম অনুযায়ী অপরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে। ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে তারা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল, যার একটি বিএনপি এবং দুটি ১১-দলীয় ঐক্য জমা দিয়েছিল।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা বা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী ইচ্ছা করলে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন। যদি কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করেন, তবে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সংবিধানে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হিসেবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের মাধ্যমে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। বর্তমান জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে দলটি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








