News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:২৫, ১৮ মার্চ ২০২৬

ট্রেন দুর্ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ

ট্রেন দুর্ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর ট্রেন নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯টি বগি বগবাড়ী এলাকায় লাইনচ্যুত হওয়ায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীর রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। 

বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর সোয়া ২টার দিকে বগুড়ার সান্তাহার জংশন ও ছাতিয়ানগ্রাম স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেসটি দুপুর ২টার দিকে সান্তাহার স্টেশনে বিরতি নেন। স্টেশন ত্যাগের পর ট্রেনটি ছাতিয়ানগ্রামের দক্ষিণে একটি ব্রিজের কাছে পৌঁছালে বগিগুলো বিকট শব্দসহ লাইনচ্যুত হতে শুরু করে। 

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটির ইঞ্জিন ও ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় চালক রেলকর্মীদের সতর্কতা সংকেত ‘লাল পতাকা’ দেখতে পাননি। ফলে ট্রেনটি না থেমে চলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে নারী ও শিশুসহ সহস্রাধিক যাত্রী ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝাঁকুনিতে ট্রেনের ছাদে থাকা শতাধিক যাত্রী নিচে পড়ে যান। এতে অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। 

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত বা নিহতের কোনো নিশ্চিত সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত, বহু হতাহতের আশঙ্কা

সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান বলেন, ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার পর যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ এবং স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেছেন।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পাকশী রেল ডিভিশনের ঈশ্বরদী লোকোসেড এবং পার্বতীপুর থেকে দুটি বিশেষ উদ্ধারকারী ক্রেনবাহী ট্রেন ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। তারা দুই দিক থেকে উদ্ধার কাজ শুরু করলে দ্রুততম সময়ে লাইন সচল করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় হাজার হাজার যাত্রী খোলা আকাশের নিচে আটকা পড়েছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সান্তাহার জংশনসহ আশেপাশের স্টেশনগুলোতেও ঢাকাগামী ও উত্তরবঙ্গগামী বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়ে আছে।

নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক রেজাউল করিম জানান, দুপুর সোয়া ২টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর চারটি ইউনিট উদ্ধার কাজে নিয়োজিত হয়েছেন। ইতিমধ্যে ৪৭ জনকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, একজনের অবস্থা গুরুতর। স্থানীয়রাও আহতদের হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

বগুড়া, আদমদীঘি ও ঈশ্বরদী সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-ঈশ্বরদী-দিনাজপুর-পঞ্চগড় রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় এবং লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কারণে রেল চলাচল স্বাভাবিক হতে বুধবার রাত বা বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়