News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৩৩, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাজ্যে লরিতে করে ২৩ বাংলাদেশি পাচারের চেষ্টা, আটক ৫

যুক্তরাজ্যে লরিতে করে ২৩ বাংলাদেশি পাচারের চেষ্টা, আটক ৫

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্য থেকে অবৈধভাবে ২৩ জন বাংলাদেশিকে লরিতে করে ফ্রান্সে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। 

দেশটির ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) একটি বিশেষ অভিযানে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ডোভার ফেরিঘাট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২২ জনই বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এনসিএ জানায়, বুধবার ডোভার ফেরিঘাটের দিকে যাওয়ার সময় একটি লরিকে থামানো হলে এর ভেতর থেকে ২৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়।

এনসিএ-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ওপর দীর্ঘদিনের নজরদারির অংশ হিসেবে বুধবার ফেরিঘাটের দিকে যাওয়া একটি লরি থামানো হয়। তল্লাশির সময় লরিটির ভেতর থেকে ২৩ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়। 

গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, চক্রটি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও ফ্রান্সের প্রবেশ সংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধ এড়াতে অবৈধভাবে মানুষ পারাপারের চেষ্টা করছিল।

এনসিএ-র শাখা কমান্ডার সাজু সাসিকুমার জানিয়েছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স উভয় দেশের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।

আরও পড়ুন: কলম্বিয়ায় বিমান বিধ্বস্তে সংসদ সদস্যসহ নিহত ১৫

তদন্তের ধারাবাহিকতায় লন্ডনের নিউ ক্রস এলাকা থেকে ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাকে এই মানবপাচার চক্রের মূলহোতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। অভিযানে তার কাছ থেকে নগদ ৩০ হাজার পাউন্ড জব্দ করা হয়। এছাড়া লরি চালক হিসেবে ৩২ বছর বয়সী এক রোমানিয়ান নাগরিক এবং পরিকল্পনায় সহায়তার অভিযোগে ৪৩ থেকে ৫৫ বছর বয়সী আরও তিন ট্যাক্সি চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

অভিযোগ রয়েছে, ওই তিন চালক লন্ডন থেকে কেন্টের হুইটস্টেবল এলাকা পর্যন্ত অভিবাসীদের পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন।

উদ্ধারকৃত ২৩ জন বাংলাদেশির মধ্যে ২২ জনের কাছে যুক্তরাজ্যে থাকার বৈধ কাগজপত্র থাকায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে একজনের নথিপত্রে অসংগতি থাকায় তাকে বর্তমানে অভিবাসন বিভাগের হেফাজতে রাখা হয়েছে। 

এনসিএ জানায়, এই চক্রটি মূলত দক্ষিণ এশীয় দেশ বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিকদের টার্গেট করে লরিযোগে ইউরোপের অন্যান্য দেশে পাঠানোর প্রলোভন দিয়ে আসছিল।

এনসিএ-র তথ্যমতে, পাচারকারী চক্রগুলো বর্তমানে লরি চালকদের বড় অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের এই অপরাধে জড়াচ্ছে। বৈধ পণ্য পরিবহনের আড়ালে মানুষ পাচারের জন্য তারা চালকদের হাজার হাজার পাউন্ডের টোপ দেয়। গত বছরের জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যেই কেন্ট এলাকায় একই ধরনের অভিযোগে নয়জন লরি চালককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বর্তমানে এনসিএ এই ধরনের প্রায় ১০০টি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়