মাল্টা উপকূলে নৌকা ডুবে ১ অভিবাসী নিহত, ৫৯ বাংলাদেশি উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত
ভূমধ্যসাগরে মাল্টার উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা উল্টে একজন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় ৫৯ বাংলাদেশি এবং দুই জন মিশরের নাগরিকসহ মোট ৬১ জনকে মাল্টার আর্মড ফোর্স উদ্ধার করে।
মাল্টা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে নৌকাটি মাল্টার সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ জোনে পৌঁছানোর পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি উল্টে যায়। উদ্ধারের সময় দুই জনের অবস্থা গুরুতর ছিল। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে একজনের জীবন রক্ষা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার হওয়া অন্যদের একটি টহল নৌকায় মাল্টার উপকূলে আনা হয়। তাদের মধ্যে আরও ছয় জন মারাত্মক হাইপোথারমিয়ায় ভুগছিলেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের অবস্থাও বর্তমানে স্থিতিশীল। উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের মাল্টার সেইন্ট পল বে-এর বুজিবা ঘাটে নোঙর করা হয়। সেখানে জরুরি সেবাকর্মীরা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। সেই সময় মাল্টার সশস্ত্র বাহিনীর একটি নৌযান ঘটনাস্থলে নজরদারি করছিল।
মাল্টার সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রে বার্তা আসে, যেখানে বলা হয় একটি নৌকা বিপদে পড়েছে এবং কয়েকজন পানিতে পড়ে গেছেন। আকাশ ও সমুদ্র ইউনিটসহ সবাইকে উদ্ধার ও তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: সিঙ্গাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৭ বাংলাদেশি আটক
মাল্টিজ সংবাদমাধ্যম টাইমস অব মাল্টা জানিয়েছে, অভিবাসনপ্রত্যাশীরা লিবিয়ার উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। তারা ইতালি বা লাম্পেদুসা দ্বীপে পৌঁছানোর আশা করেছিলেন।
বাংলাদেশকে ‘নিরাপদ উৎস দেশ’ হিসেবে বিবেচনা করে মাল্টা। এ কারণে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন সাধারণত প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এ ঘটনাটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাল্টায় অনিয়মিত অভিবাসী আগমনের প্রথম বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২০ সালে দেশটিতে ২,২০০ জন অভিবাসী এসেছিলেন। কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার কারণে পরবর্তী বছরগুলোতে সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে; ২০২৪ সালে মাত্র ২৩৮ জন আশ্রয়প্রার্থী মাল্টায় পৌঁছেছিলেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত মাল্টায় অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ১৮৫ জন। তুলনায়, এ বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছেছেন প্রায় ১,৩৬,০০০ জন। তাদের মধ্যে ৬৪,০০০ ইতালিতে এবং ৪৪,০০০ গ্রিসে পৌঁছেছেন।
অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন, মাল্টা ও লিবিয়ার মধ্যে পাঁচ বছর আগে গোপন চুক্তি স্বাক্ষরের পর অনিয়মিত অভিবাসীর আগমন কমে গেছে।
চলতি বছরের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়ার মিলিশিয়া বাহিনীর হাতে অভিবাসী আটক হওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় ২৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাল্টার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাইরন কামিলেরি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো মানুষকে বাঁচানো। যারা আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে যোগ্য, তারা তা পাবেন। না হলে ফেরত পাঠানো হবে। ইউরোপে কে আসবেন, তা ইউরোপকেই নির্ধারণ করতে হবে।
সূত্র: টাইমস অব মাল্টা, ইনফোমাইগ্রেন্টস, ইউএনএইচসিআর
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








