সংসদ অধিবেশনে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ৫৮৩ দিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ২০২৬ সালের এই প্রথম অধিবেশনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।
বক্তব্যে তিনি বর্তমান সময়কে ‘কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অধিবেশনের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দিনটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি এই অধিবেশন আহ্বান করেছিলেন।
নিয়ম অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে এই অধিবেশন বসল। সংসদ নেতা তার বক্তব্যে অধিবেশন পরিচালনার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন, যা বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমর্থনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত সকল আন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
আরও পড়ুন: ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম যাত্রা শুরু
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন লড়াই চালিয়ে গেছেন এবং ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করেননি। একইসঙ্গে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্য ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি হলো জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও প্রতিটি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার রাজনীতি। দল-মত নির্বিশেষে আমি দেশের সকল মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছি।
তিনি আরও যোগ করেন যে, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে কোনো রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে না এবং তিনি এই লক্ষ্য অর্জনে সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, যার মধ্যে বিএনপি এককভাবে পেয়েছে ২০৯টি আসন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ৭৬টি আসন লাভ করেছে (জামায়াত এককভাবে ৬৮টি), যার ফলে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বর্তমানে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকা পালন করছেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই সংসদ হবে সকল যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








