নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:৫৩, ১৩ আগস্ট ২০২৬

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং

ফাইল ছবি

গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা, কয়লার ঘাটতি, বৈরী আবহাওয়ায় এলএনজি খালাসে বাধা, একটি এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে ঘাটতি সব মিলিয়ে দেশের বিদ্যুৎ খাতে একসঙ্গে তৈরি হয়েছে বহুমুখী সংকট। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা যখন ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তখন উৎপাদন ও সরবরাহ সেই অনুপাতে বাড়ানো যাচ্ছে না। ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদিনই ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গত কয়েক দিনে সর্বোচ্চ ঘাটতি ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। রাজধানীতে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকলেও দেশের গ্রাম ও পল্লি অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কোথাও ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে, আবার কোথাও ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্যাসের তীব্র সংকট। বাসাবাড়িতে রান্নার জন্য বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়েছে; গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানার নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানও গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে জ্বালানি সংকটের একটি অংশ এখন সরাসরি বিদ্যুৎ সংকটকে আরও গভীর করছে।

সংকটের কেন্দ্রে মহেশখালীর দুই এলএনজি টার্মিনাল
বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহ কমে যাওয়া। সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালিত এই দুই এফএসআরইউ দেশের আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। স্বাভাবিক সময়ে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার সক্ষমতা ছিল। কিন্তু সামিটের টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন এলএনজি কার্গো খালাস করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বয়লার-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, এক্সিলারেটের টার্মিনাল বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে এবং সেটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় নিতে প্রায় ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রেখে রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হবে।

প্রথম আলোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট, যার মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেটের টার্মিনালে সমস্যা হওয়ার পর সামিটকে বাড়তি চাপ নিতে হয়েছিল। এক পর্যায়ে সামিট দৈনিক প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করলেও নতুন এলএনজি কার্গো গ্রহণ করতে না পারায় গত সোমবার সন্ধ্যার পর তাদের সরবরাহ কমে প্রায় ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। একই সময়ে এক্সিলারেট থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল। দেশীয় গ্যাসসহ মোট সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২১৩ কোটি ঘনফুটে যা সাম্প্রতিক তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন।

অর্থাৎ, সংকটটি শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহে সীমাবদ্ধ নেই; গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল শিল্প, সিএনজি স্টেশন, বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরাও একই সংকটের প্রভাব বহন করছেন। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক গ্যাসের প্রয়োজন প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দেওয়া হয় প্রায় ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট। সাম্প্রতিক এলএনজি সংকটে তা একপর্যায়ে ৭০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে যায়। পরে সরবরাহ বাড়িয়ে প্রায় ৮০ কোটি ঘনফুটে নেওয়া হলেও তা স্থায়ী হয়নি। গ্যাসের এই ঘাটতির সরাসরি প্রতিফলন পড়েছে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনে।

সক্ষমতা আছে, জ্বালানি নেই
দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু গ্যাসের অভাবে এসব কেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদন কয়েক হাজার মেগাওয়াটে নেমে আসছে। পিডিবির কর্মকর্তাদের হিসাবে, সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের ঘাটতির কারণে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন কমেছে। এর সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বড় কেন্দ্রগুলোর কম উৎপাদন এবং আমদানি করা বিদ্যুতের ঘাটতি যোগ হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ-চাহিদার ব্যবধান দ্রুত বেড়েছে। প্রথম আলোর বিশ্লেষণেও গ্যাস সংকটের পাশাপাশি দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কম উৎপাদন এবং তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে।

পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও নোরিংকোসহ কয়েকটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাসে সমস্যা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিলের কারণে কয়লা আমদানিতেও জটিলতা তৈরি হওয়ার কথা জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও ৭ আগস্টের পর উৎপাদন কমে যায়। ঝড়-বৃষ্টির কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কেন্দ্রটি উৎপাদন ধরে রাখতে পারেনি। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে জাতীয় গ্রিডে আদানি থেকে ৪০০-৫০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ আসছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে তেলভিত্তিক কেন্দ্র দিয়ে ঘাটতি পূরণের সুযোগ থাকলেও সেখানে বড় আর্থিক চাপ রয়েছে। তেলচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় গ্যাসভিত্তিক উৎপাদনের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে সংকট মোকাবিলায় তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরিবর্তে ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি হলেও বাস্তবে প্রয়োজনের সময় সেই সক্ষমতার বড় অংশ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

চাহিদা বাড়ছে, উৎপাদন কমছে
বিদ্যুৎ সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো একই সময়ে চাহিদা দ্রুত বেড়ে যাওয়া। পিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানিয়েছেন, গত বছর একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এবার তা বেড়ে ১৮ থেকে ১৯ হাজার মেগাওয়াটে উঠেছে। তীব্র গরমে ফ্যান, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। তার সঙ্গে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহারও বেড়েছে। শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় নিজস্ব ক্যাপটিভ জেনারেশন ব্যাহত হচ্ছে; ফলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই বাড়তি চাহিদা জাতীয় গ্রিডের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।

পিডিবি ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে দিনের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। রোববার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল প্রায় ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, সোমবার তা বেড়ে ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে ওঠে। মঙ্গলবারও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বুধবার বেলা ৩টার দিকে চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ২৩৭ মেগাওয়াটের মতো, বিপরীতে উৎপাদন ও সরবরাহ ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৮৫৫ মেগাওয়াট; ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট। প্রথম আলোর তথ্যেও গত কয়েক দিনে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৩ হাজার ৪৬৫ থেকে ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটের মধ্যে থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রাতের দিকেও সংকট কমছে না। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে ঘাটতি ছিল প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট। রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৬ মেগাওয়াটের মতো, সরবরাহ ১৩ হাজার ২৩০ মেগাওয়াট এবং ঘাটতি ৩ হাজার ১১৬ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৫৬ মেগাওয়াট এবং ভোর ৪টায় প্রায় ২ হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট। অর্থাৎ রাতের তুলনামূলক কম চাহিদার সময়েও উৎপাদন ঘাটতি বড় থাকায় গ্রিডকে স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পল্লীতে
জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন ঘাটতির সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ওপর। দেশে প্রায় পাঁচ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় চার কোটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায়। মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ এসব সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ পান এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশই এসব এলাকায় সরবরাহ করা হয়। কিন্তু কয়েক দিন ধরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় চাহিদা ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াটের বিপরীতে বরাদ্দ মিলছে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে সমিতিগুলো।

ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের সময়কাল একেবারে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। রংপুরের কোনো কোনো গ্রামীণ এলাকায় দিনে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। শরীয়তপুরের জাজিরায় ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কোনো কোনো এলাকায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ১৬ ঘণ্টা, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা এবং গোপালগঞ্জের কোনো কোনো এলাকায় প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। নেত্রকোনায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গ্রাহক পর্যায়ে ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগও এসেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিকে গ্রামে বিদ্যুৎ এখন অতিথি হিসেবে তুলে ধরে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে কালবেলাও পল্লি অঞ্চলের তীব্র সংকটের চিত্র প্রকাশ করেছে।

ময়মনসিংহ, রংপুর, সিলেট, বরিশাল ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পরিস্থিতি বিশেষভাবে খারাপ। সিলেট নগরে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট। ফলে কোনো কোনো সময়ে ৮০ থেকে ১০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি থাকছে। হবিগঞ্জ শহরেও ১৭-১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১০-১২ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা। বৃহত্তর ময়মনসিংহে চাহিদা প্রায় ২৫০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে ১৫০ থেকে ১৬০ মেগাওয়াট। রংপুর বিভাগে গত কয়েক দিনে ১৫০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতির তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে মার্কেট বন্ধ রাত ৮টায়, ৭টায় বিলবোর্ড

খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও একই দুর্ভোগ
লোডশেডিংয়ের তীব্রতা শুধু উত্তর বা পূর্বাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই। খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায়ও বিদ্যুৎ সংকট জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ওজোপাডিকোর আওতায় থাকা এসব জেলায় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ২৮ হাজার। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে এসব এলাকায় গড়ে ৭৭০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ মিলছে প্রায় ৬২০ থেকে ৬৩০ মেগাওয়াট। ফলে গড়ে ১৫০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে।

সোমবার রাত ৮টায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চাহিদা ছিল ৭৩৬ মেগাওয়াট, সরবরাহ পাওয়া যায় ৬২৪ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ১১২ মেগাওয়াট। একই দিন দুপুর ১টায় চাহিদা ৭৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ ছিল মাত্র ৬১৯ মেগাওয়াট। অর্থাৎ তখন ঘাটতি দাঁড়ায় ১৫১ মেগাওয়াট। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ভারী যন্ত্রপাতি, লেদ মেশিন, ফ্রিজ, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামনির্ভর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিল্পকারখানাকে জেনারেটর চালাতে গিয়ে ডিজেল বা অন্যান্য জ্বালানির বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে। খুলনা চেম্বার অব কমার্সও জানিয়েছে, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কারণে শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

সেচ থেকে শিল্প সবখানেই ধাক্কা
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব এখন শুধু ঘরবাড়ি বা দোকানপাটে সীমাবদ্ধ নেই; কৃষি, মৎস্য, শিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ও এর অভিঘাত স্পষ্ট। সেচনির্ভর কৃষি এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় গভীর ও অগভীর নলকূপ চালানো যাচ্ছে না। কৃষকদের অনেককে ডিজেলচালিত পাম্পের দিকে যেতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও ময়মনসিংহ বিভাগের কৃষকেরা সেচ সংকটের কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

মৎস্য খাতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। মাছ সংরক্ষণের জন্য বরফ উৎপাদন ও কোল্ড স্টোরেজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে বরফ উৎপাদন কমে যাওয়ায় মাছ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ফ্রিজ ও হিমায়িত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসাগুলোতেও পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। কম্পিউটার দোকান, টেইলার্স, ইন্টারনেট সার্ভিস, প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠান, ওয়ার্কশপ, লেদ মেশিন ও ছোট কারখানাগুলো ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারছে না।

শিল্পকারখানার সমস্যা আরও গভীর। গ্যাস না থাকায় ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার পর গ্রিডের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কিন্তু একই সময়ে গ্রিডেই বিদ্যুৎ ঘাটতি। ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কখনো উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে, কখনো জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে, উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং সময়মতো পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনেও দীর্ঘ লাইন
গ্যাস সংকটের সরাসরি আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতে। নারায়ণগঞ্জে জেলার ৩৩টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৩০টিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে স্টেশন মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে। মাত্র তিনটি স্টেশনে কোনোভাবে সরবরাহ চালু আছে। ফলে এসব স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। চালকদের অনেকেই এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছেন না।

স্টেশন-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে বিতরণ লাইনে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। কোথাও কয়েক ঘণ্টা সম্পূর্ণ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। নারায়ণগঞ্জের একটি সিএনজি স্টেশনের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্বাভাবিকভাবে মেশিন চালানোর জন্য যেখানে অন্তত ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন, সেখানে কখনো ১ পিএসআইও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। রাজধানীর কিছু স্টেশনেও দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ঢাকায় গ্যাস না থাকায় অনেক যানবাহন নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের স্টেশনগুলোতে চলে আসায় সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

তিতাসের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগ জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি একটি এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের পর মেরামত ও পুনঃসংযোগের প্রক্রিয়াও গ্যাস সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, মেরামত ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির পর কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

ক্ষোভ থেকে হামলা, ৮০ সমিতির নিরাপত্তা চাওয়া
দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের ক্ষোভ এখন আর শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অভিযোগকেন্দ্রে সীমাবদ্ধ নেই। টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, পাবনা, মুন্সীগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও, ভাঙচুর, কর্মীদের অবরুদ্ধ ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাবস্টেশনে হামলার ঘটনায় একজন লাইনম্যান মারধরের শিকার হয়েছেন। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা অফিসে ভাঙচুর করেছেন। পাবনার ঈশ্বরদীতে অতিরিক্ত লোডশেডিং ও বিল নিয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা একজন মিটার রিডারকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অফিসে হামলার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নজিরবিহীনভাবে পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে। অফিস, গ্রিড, উপকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ স্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে। সমকালও পল্লি অঞ্চলে দিনের বড় অংশ লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি ৮০ সমিতির নিরাপত্তা চাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে মার্কেট বন্ধ
সংকট সামাল দিতে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগও জোরদার করেছে। নতুন নির্দেশনায় দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করতে এবং সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনার আওতায় এসেছে। জরুরি সেবার প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এ ধরনের উদ্যোগ নতুন নয়; তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এর গুরুত্ব বেড়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের পিক সময়ে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের চাহিদা কমানো গেলে গ্রিডের ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূল সংকটের সমাধান নয়; বরং সরবরাহ ঘাটতির সময় সাময়িক ব্যবস্থাপনা।

সরকারের আশ্বাস, সমাধান কতটা দ্রুত?
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। মহেশখালীর টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি কার্গো খালাস করা যাচ্ছে না এবং এক্সিলারেট টার্মিনালও পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না এই দুই সমস্যাকে তিনি বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সরকার বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের চেষ্টা করছে এবং মালয়েশিয়া থেকে অন্তত একটি কার্গো আনার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে। তবে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয় বলে তিনি স্বীকার করেছেন। ১২ আগস্টের প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রী বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা প্রকাশ করলেও পূর্ণ স্বাভাবিকতা ফেরার নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি।

বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, এলএনজি সরবরাহ বাড়লে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দ্রুত উৎপাদনে ফিরতে পারবে। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বাড়ানো গেলে জাতীয় গ্রিডের ঘাটতি কমতে পারে। সংশ্লিষ্ট খাতের কর্মকর্তারা মনে করছেন, মহেশখালীর টার্মিনালগুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারলে কয়েক দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে; তবে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগার আশঙ্কা রয়েছে।

সংকটের তাৎক্ষণিক কারণের আড়ালে দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে বর্তমান লোডশেডিং শুধু বৈরী আবহাওয়া, টার্মিনালের ত্রুটি বা কয়লা সংকটের ফল নয়; এটি বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থার আমদানিনির্ভরতার দুর্বলতাকেও সামনে এনেছে। প্রথম আলোর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দেশে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি এবং ২০১৩ সাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। একই সময়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন প্রত্যাশিত হারে না বাড়ায় আমদানির ওপর চাপ ক্রমেই বেড়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন এলএনজি কার্গো এনে বর্তমান সংকট সাময়িকভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে না। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো, কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ-শৃঙ্খল শক্তিশালী করা, আমদানির জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি রাখা এবং সৌরসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা জরুরি।

বর্তমান সংকট সেই দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি হলেও প্রয়োজনের সময় জ্বালানি না থাকায় সেই সক্ষমতার বড় অংশ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে একদিকে হাজার হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা অব্যবহৃত থাকছে, অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলের মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে থাকছেন। এই বৈপরীত্যই বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সমস্যাটি শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর নয়, বরং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, সুষ্ঠু আমদানি ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন সক্ষমতার কার্যকর ব্যবহার এবং একটি স্থিতিশীল জাতীয় জ্বালানি নীতির।

সব মিলিয়ে আপাতত স্বস্তির প্রধান চাবিকাঠি মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল দুটির সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া। সামিটে নতুন কার্গো খালাস এবং এক্সিলারেট টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ শেষ করে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কয়লা সরবরাহ ও ভারতীয় বিদ্যুৎ আমদানি স্বাভাবিক হলে জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি কমতে পারে। কিন্তু এর আগ পর্যন্ত দেশের পল্লি অঞ্চল, কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর সংকটের চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কাই বেশি। আর জনরোষের যে চিত্র ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও নিরাপত্তা চাওয়ার ঘটনায় প্রকাশ পেয়েছে, তা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়