নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৫৭, ৫ আগস্ট ২০২৬

ডকুমেন্টারি ঘিরে রাষ্ট্রপতির সামনে হট্টগোল

ডকুমেন্টারি ঘিরে রাষ্ট্রপতির সামনে হট্টগোল

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্রকে (ডকুমেন্টারি) কেন্দ্র করে হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতিতেই এই বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। পরবর্তীতে সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের হস্তক্ষেপে এবং ত্রুটি সংশোধনের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।  

বুধবার (০৫ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের সমসাময়িক নানা দিক তুলে ধরে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। 

তবে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিলনায়তনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিবাদ ও আপত্তি জানিয়ে স্লোগান উঠতে শুরু করে। দর্শকসারিতে উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ ডকুমেন্টারিটিকে ভুয়া, ভুয়া বলে স্লোগান দিতে থাকেন।  

প্রতিবাদকারী শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের ক্ষোভের মূল কারণ ছিল ডকুমেন্টারিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের বিভিন্ন দিক পরিপূর্ণভাবে তুলে না ধরা। 

তাদের জোরালো দাবি ছিল, ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের মূল চেতনা এবং অনেক বীর যোদ্ধার অবদান ও আত্মত্যাগের সঠিক চিত্র এই প্রামাণ্যচিত্রে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এ সময় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মঞ্চের সামনে সতর্ক অবস্থান নেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো মিলনায়তনে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে মঞ্চে আসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি মাইকে উপস্থিত সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দিলেও উত্তাপ কমেনি। 

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে আদালত

একপর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মাইক হাতে নিয়ে উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা এখানে নিজেকে জাহিল করতে আসছেন। প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর সভাকক্ষে উপস্থিত জনতার একাংশ আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং হট্টগোল তীব্র আকার ধারণ করে।  

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেন। তিনি বারবার মাইকে আহ্বান জানানোর পাশাপাশি আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আখতার হোসেনকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অনুরোধ জানান।  

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন মঞ্চে আসেন। তিনি উপস্থিত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ভিডিও ডকুমেন্টারিতে অনেকগুলো অসংগতি রয়েছে। এই অসংগতিগুলো নিয়ে আমরা দ্রুত আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। আপনারা শান্ত হয়ে বসুন। 

তার এই বক্তব্যের পর কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, পরবর্তীতে নিজের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদানকালে একই অসংগতির প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপি নেতা আখতার হোসেন রাষ্ট্রপতির অনুমতি সাপেক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে অডিটোরিয়াম ত্যাগ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ডকুমেন্টারির ত্রুটি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। 

তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করার জন্য রাষ্ট্র এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কিন্তু এখানে যে দৃশ্য দেখলাম, তাতে আমি অত্যন্ত দুঃখিত, লজ্জিত এবং ব্যথিত হয়েছি। 

তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি, প্রতীক। তার ছবি না থাকলে সেটি কোনো ডকুমেন্টারিই হলো না। 

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুনরায় মঞ্চে আসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি ডকুমেন্টারিতে থাকা অসম্পূর্ণতা ও ভুলত্রুটির জন্য উপস্থিত সবার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। 

তিনি ঘোষণা দেন, প্রতিবাদকারী শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের মধ্য থেকে একটি প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে এই ডকুমেন্টারিটি পুনরায় পর্যালোচনা ও সংস্কার করা হবে। তাদের সুনির্দিষ্ট মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, বীরত্ব ও আত্মত্যাগের সঠিক ইতিহাস এতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। মন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর প্রতিবাদকারীরা শান্ত হন এবং অনুষ্ঠানের পরিবেশ স্বাভাবিক হলে বাকি কর্মসূচিগুলো সম্পন্ন হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়