স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৩৭, ৪ আগস্ট ২০২৬

হামের চিকিৎসায় ঋণ নিচ্ছে ১০ পরিবারের ৯টি: জরিপ

হামের চিকিৎসায় ঋণ নিচ্ছে ১০ পরিবারের ৯টি: জরিপ

ছবি: সংগৃহীত

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে আক্রান্ত পরিবারগুলো মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ছে। সম্প্রতি পরিচালিত এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে প্রায় ৯টি (৮৯ শতাংশ) চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া ৬১ শতাংশ পরিবার তাদের সঞ্চয়ের পুরোটা ব্যয় করেছে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশন (আইএফআরসি) যৌথভাবে এই জরিপ পরিচালনা করে। চলতি বছরের মে ও জুন মাসে দেশের ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর পরিচালিত এ মূল্যায়নে চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি আক্রান্ত পরিবারগুলোর সামাজিক ও মানবিক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপে দেখা যায়, চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রতিটি পরিবারকে গড়ে প্রায় ১৬ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। অংশগ্রহণকারী পরিবারের ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী, যাদের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।

শিশুরা দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকায় অনেক অভিভাবক কর্মস্থলে যেতে পারেননি। ফলে অনেকের আয় বন্ধ হয়ে গেছে, আবার কেউ কেউ চাকরিও হারিয়েছেন।

জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর ৩৫ শতাংশ ওষুধ, ৩৩ শতাংশ বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত সহায়তা এবং ২২ শতাংশ খাদ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব ড. কবির এম. আশরাফ আলম বলেন, জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৪০০টি পরিবারকে চিহ্নিত করে প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে জরুরি নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

আইএফআরসির বাংলাদেশ প্রধান আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে দুইজন এবং ঢাকায় একজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৫১ জন এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪৭ জনে।

একই সময়ে নতুন করে ৯৬৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে এবং ৯০৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৫০ জন। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৪০৮।

আরও পড়ুন: ৫ আগস্ট ঘিরে সারা দেশে র‍্যাবের কড়া নিরাপত্তা

বর্তমানে সরকারের টিকাদান কর্মসূচি ও জনসচেতনতা কার্যক্রমে সহায়তা করতে সারা দেশে এক হাজারের বেশি রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়