স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:২৬, ৪ আগস্ট ২০২৬
আপডেট: ০৮:২৭, ৪ আগস্ট ২০২৬

মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেল ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’

মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেল ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’

ছবি: সংগৃহীত

গুমের মতো গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন আইনে গুমের অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর গুমের কারণে মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা না গেলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানায়।

সরকার জানিয়েছে, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো তৈরি হবে।

১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত ও বিচার
আইনে গুমের মামলার তদন্ত ও বিচার দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং পরবর্তী ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার এবং ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের সুযোগও আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অধিকার
নতুন আইনে গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবারের অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের বিধান রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।

আরও পড়ুন: হাসিনার কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে

গুম সনদ ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা
আইনে বলা হয়েছে, গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে। এছাড়া পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সন্ধান না মিললে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের সুবিধার্থে গুম সনদ প্রদান করা হবে।

এছাড়া সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে গুমসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়