নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:১৮, ১৮ জুন ২০২৬
আপডেট: ১৯:২১, ১৮ জুন ২০২৬

‘ভেজাল খাদ্য নিয়ে সত্য কথা বলা কি অপরাধ?’

‘ভেজাল খাদ্য নিয়ে সত্য কথা বলা কি অপরাধ?’

ছবি: সংগৃহীত

ভেজাল দুধ নিয়ে করা একটি ভিডিও প্রকাশের কারণে এর প্রকাশক সাংবাদিক সোহেল হোসেন ও তার পরিচালিত নিরাপদ খাদ্য বিক্রয় কেন্দ্র ‘প্রাকৃতিক হাটের’ বিরুদ্ধে পরপর ২টি মামলা করেছে আকিজ গ্রুপ। এর পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে একজন নাগরিক হিসেবে সচেতন মানুষের কাছে ‘ভেজাল খাদ্য নিয়ে সত্য কথা বলা অপরাধ বা মানুষকে সচেতন করা কি অপরাধ কিনা’- এমন প্রশ্ন তুলে ধরেছেন তিনি।

তিনি তার ওই পোস্টে বলেন- ‘আমি অবাক হইনি, কারণ এদেশে সবই সম্ভব!সত্যি বলতে, আমি হতাশ। ক্ষুব্ধও।‘

‘প্রায় দেড় মাস আগে প্রাকৃতিক হাট - Prakritik Hat   পেইজে আমার পরিচালিত প্রাকৃতিক হাট “নির্ভেজাল কথা বলে” অনুষ্ঠানে ভেজাল দুধ নিয়ে একটি পর্ব প্রকাশ করেছিলাম। সেখানে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং প্রকাশ্যে থাকা তথ্যের ভিত্তিতেই আলোচনা করা হয়েছিল। ভিডিওটি এখন পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং ভেজাল খাদ্য নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করে। কিন্তু সেই জনসচেতনতার ফল কী হলো?’

‘আকিজ গ্রুপ আমার ও নিরাপদ খাদ্য বিক্রয় কেন্দ্র প্রাকৃতিক হাটের বিরুদ্ধে পরপর ২টি মামলা করেছে। আমি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আইনি প্রক্রিয়ার প্রতিও আমার আস্থা আছে। সেইসাথে ভেজাল দুধ নিয়ে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণও রযেছে। এরপরও একজন নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন করতেই পারি, ভেজাল খাদ্য নিয়ে সত্য কথা বলা কি অপরাধ? মানুষকে সচেতন করা কি অপরাধ?’

‘সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, এই দেশে আমরা হয়তো কোনোভাবে বেঁচে আছি, কিন্তু আমাদের বর্তমান ও আগত প্রজন্ম ভয়াবহ ভেজাল ঝুঁকির মধ্যে বড় হচ্ছে। দুধে ভেজাল, খাদ্যে ভেজাল, ফলে ভেজাল, এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। অথচ এসব নিয়ে কথা বলার চেয়ে কখনো কখনো চুপ থাকাই যেন বেশি নিরাপদ!’

‘আজ মনে হচ্ছে, এ দেশে আজও কেউ কিছু বলতে পারে না, কেউ কিছু করতে পারে না। আমরা সবাই যেন এক ধরনের অসহায়ত্বের মধ্যে বসবাস করছি। যারা প্রশ্ন তোলে, তাদেরই অনেক সময় বিশ্রী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।’

‘তারপরও আমি বিশ্বাস করি, নিরাপদ খাদ্যের অধিকার নিয়ে কথা বলা বন্ধ করা যাবে না। কারণ এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্য, শিশুদের ভবিষ্যৎ এবং একটি জাতির নিরাপত্তার প্রশ্ন।’

আরও পড়ুন: ডুমুরিয়ায় ১৯ বিদ্যালয়ে বরাদ্দ সাড়ে ২৬ লাখ টাকাই হরিলুট!

‘আর একটি কথা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ভেজালের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে যদি আমাকে জেলেও যেতে হয়, আমি হাসিমুখেই যাব। কারণ অন্তত এই তৃপ্তি থাকবে যে আমি নিজের স্বার্থের জন্য নয়, দেশের মানুষের স্বার্থে কথা বলেছি। আমি একজন বাবা। আমি আমার সন্তানের মুখে বিষ তুলে দিতে চাই না। আমি চাই না আপনার সন্তান, আমার সন্তান কিংবা দেশের কোনো শিশুর খাবারের সাথে প্রতারণা করা হোক। নিরাপদ খাদ্যের দাবিতে কথা বলা যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে সেই অপরাধের দায় আমি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত।’

‘আজ আমাকে চুপ করানো গেলে, কাল ভেজালের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস আরও অনেকেই হারাবে। আজ যদি ভেজালের বিরুদ্ধে কথা বলার কণ্ঠগুলো থেমে যায়, তাহলে কাল জিতে যাবে ভেজাল, হারবে দেশের মানুষ।’

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়