ডুমুরিয়ায় ১৯ বিদ্যালয়ে বরাদ্দ সাড়ে ২৬ লাখ টাকাই হরিলুট!
স্কুল মেরামতে বরাদ্দের টাকা পেলেও করা হয়নি কোনো কাজ। ছবি: নিউজবাংলাদেশ
‘নির্বাচনের সময়ে স্কুল মেরামত করতে টাকা দিয়েছিল অফিস থেকে কিন্তু কাজ করিনি। টাকা রেখে দিয়েছে। এখন সেই টাকা দিযে কাজ করাব।’ এমনটাই বলেছেন ডুমুরিয়া উপজেলার ১২ নম্বর রংপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিভাষ চন্দ্র সরকার। বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার হতে ডুমুরিয়া উপজেলার ১৯টি ভোটকেন্দ্রে সাড়ে ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে ওই অর্থ বেশিরভাগই লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে বরাদ্দপ্রাপ্ত স্কুলগুলোতে গিয়ে দেখা যায় জীর্ণশীর্ণ অবস্থা। আবার যেসব বিদ্যালয়ে কাজ করানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে সেখানে সংস্কারের কোন নমুনা পাওযা যায়নি। কেন্দ্রভিত্তিক স্বল্প সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের জন্য উপজেলা প্রকৌশল দফতর থেকে একটি নকশা তৈরি করে দেয়া হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক অফিসের তথ্যমতে মধুগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। কাজের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধামালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরাদ্দ দেয়া হযেছে ১ লাখ টাকা। স্কুল শিক্ষকদের দাবি তারা গ্রিল ও গেট তৈরি করেছেন। তবে স্থানীয়রা জানান, এটি নির্বাচনের আগেই ছিল। চেঁচুড়ি দহাকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাহারুল ইসলাম সরদার দাবি করেন তিনি বিদ্যালয়ের গ্রিলে রং করেছেন ও জলছাদ করেছেন। অথচ ছাদ চুইয়ে পানি পড়তে দেখা গেছে। টোলনা দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিএম আহসান হাবিব জানান তিনি স্কুল মেরামতের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছিলেন। সেই টাকায় ইলেকট্রিকের কাজ করেছেন ও একটি টয়লেট নির্মাণ করেছেন। অথচ বিদ্যালয়টিতে আগেই বিদ্যুত সংযোগ ছিল। আর টয়লেটের উপর নতুন টিনের ছাউনি দেখা গেছে। এছাড়া আর কোন কাজ তেমন দেখা যায়নি।

একইভাবে রূপরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বরাদ্দ পেয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, গজেন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ টাকা। মাধবকাটি বিলপাটিয়ালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বেতাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চিংড়া গোলদার বাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। টাউন শরাফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। খড়িবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬০ হাজার টাকা। টাউন ঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বটবেড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। লাইন বিলপাবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কমলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। খোরেরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কোমরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ টাকা এবং বামুন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বরাদ্ধ পায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন: শুধু উচ্চ শিক্ষা নয় প্রয়োজন কারিগরি শিক্ষাও: শিক্ষামন্ত্রী
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা বলেন, নির্বাচনকালিন কেন্দ্র ভিত্তিক সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয় প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট ঐলাকার উপ-সহকারি প্রকৌশলী কি কাজ করতে হবে তার একটি নকশা করে দিয়েছেন। এ কাজ বুঝে নেয়ার দায়িত্ব প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গাজী সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, প্রত্যেকটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেয়া বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হয়েছে। কোন রকম লুটপাট হয়নি।
খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম বলেন, নির্বাচনের পূর্বে মন্ত্রণালয় থেকে কেন্দ্রভিত্তিক স্কুল সংস্কারে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। যার মধ্যে ডুমুরিয়ায় ১৯টি বিদ্যালয় রয়েছে। নির্বাচন পূর্ব অর্থ ব্যয় না করার কোন কারণ নেই। যদি কেউ কাজ না করে অর্থ আত্মসাত করে তবে তাদের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








