News Bangladesh

খুলনা সংবাদদাতা || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৩০, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

পরিবেশ বিধংসী ইটভাটার রমরমা বাণিজ্য, বেশির মালিক আ.লীগ নেতা

পরিবেশ বিধংসী ইটভাটার রমরমা বাণিজ্য, বেশির মালিক আ.লীগ নেতা

ছবি: নিউজবাংলাদেশ

পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় অবৈধভাবে ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জনবহুল ও শষ্যভূমির আশপাশের এলাকায় এসব ইটভাটা পরিচালিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাছ-পালা, কৃষি ও কৃষক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ এসব ভাটা বন্ধ করার জন্য এখনও পর্যন্ত তেমন কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। 

ডুমুরিয়া উপজেলায় এক সমযে ৪৬টি ইটভাটা ছিল যার মধ্যে ৩৪টি ইটভাটা চলমান রয়েছে। এসব ভাটার যে আয়তন দেখানো হয়েছে সেখানে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। এসব ইটভাটার কোনটির পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। এমনকি লাইসেন্সও নেই। লাইসেন্স ও পরিবেশের অনুমোদন না থাকলেও ভাটার কার্যক্রম থেমে নেই।

স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, ভাটায় ইট পোড়ানো চুল্লি দিয়ে নির্গমন হওয়া কালো ধোঁয়ায়, ফসলের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষির সাথে যুক্ত ও জনবসতি এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য কৃষি ফসল উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। বর্তমানে আম গাছে ও কাঠাঁলগাছে মুকুল আসার সময় সেসব গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নারকেল, সুপারি গাছে ফলন নেই। বসতবাড়িতে ভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় বসবাস করা যাচ্ছে। পরিবেশ বিধংসী এসব ভাটা বন্ধ করার দাবি স্থানীয়দের।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহি অফিসারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তালিকা অনুযায়ি বর্তমানে ৩৪টি ইটভাটা চালু রয়েছে। সেগুলো হলো- বরাতিয়ার এমবি ব্রিক্স যার মালিক মোঃ ফজলুর রহমান। জমির আয়তন ৩ একর। খর্নিয়ার সেতু ব্রিক্স ১ ও শাহপুরে ভরাট হওয়া হামকুড়া নদীর বুকে সেতু ব্রিক্স ২  মালিক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা গাজী এজাজ আহমেদ। জমাদ্দার ব্রিক্স রানাই এলাকায় যার মালিক জাতীয় পার্টির নেতা আব্দুল লতিফ জমাদ্দার। বয়ারসিং এলাকায় ভাই ভাই  ব্রিক্স যার মালিক আওযামী লীগের সাবেক নেতা রঞ্জন কুমার সরদার। অরগাতিয়া এলাকায় স্টোন ব্রিক্স যার মালিক ইকবাল জামাদ্দার। ওই ভাটার জমির আয়তন দেখানো হয়েছে দেড় একর। অথচ ভাটাটি হরি নদী দখল করে ভাটা সম্প্রসারিত করেছেন যার আয়তন হবে কমপক্ষে ৫০ একর। 

ভদ্রদিয়ার কেপি ব্রিক্স যার মালিক সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ। কানাইডাঙ্গায় নর্থ খুলনা ব্রিক্স। যার মালিক সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দের আস্থাভাজন প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। রানাই গ্রামে এস এম ব্রিক্স যার মালিক এস এম আকমাল হোসেন। রানাই গ্রামে কেবি ব্রিক্স। সেতু ব্রিক্স ৪  মালিক আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম গাজী আব্দুল হাদীর ভাই। সাহস এলাকায় জাহিদ ব্রিক্স। মির্জাপুর বাইড়া এলাকায় মাস্টার ব্রিক্স। তেলিখালী এলাকায় এস কে এস ব্রিক্স ও এম আর ডি ব্রিক্স। এ দুটির মালিক সাবেক আওয়ামী লগি নেতা মোস্তফা রশিদী দোজা। 

থাকেন গুহায়, ১২ বছর কথা না বলার প্রতিজ্ঞা রঞ্জিত সাধুর!

বয়ারসিং এলাকার সরদার ব্রিক্স যার মালিক পুষ্পক সরদার। বযারসিং এলাকায় জেবি ব্রিক্স যার মালিক আব্দুল লতিফ জমাদ্দার। কুলবাড়িয়া গ্রামে মোঃ অজিজুর রহমান মোড়লের মালিকানার আল্লাহর দান ব্রিক্স। যার আয়তন দেখানো হয়েছে মাত্র ২ একর। অথচ এই ভাটাটি নদী দখল করে প্রায় ২০ একরের বেশি জমি নিয়ে স্থাপিত। কুলবাড়িয়া এলাকায় মোঃ শাহজান জমাদ্দারের মালিকানার নুরজাহান ব্রিক্স-১ ও বরাতিয়ার নুরজাহান ব্রিক্স-২।

এছাড়া রয়েছে, মানোহরপুরের মেসার্স রিপা ব্রিক্স, টিয়াবুনিয়ায় এসবি ব্রিক্স-২, রানাই গ্রামে লুইন ব্রিক্স, খড়িয়া এলাকায় এস এম ব্রিক্স, সাহস এলাকায় জাহিদ ব্রিকআস-২, কুলবাড়িয়ায় কেবি ব্রিক্স-২, সাহস এলাকায় তোফাজ্জেল ব্রিক্স, রানাই গ্রামের এম বি আই ব্রিক্স, কানাইডাঙ্গার সেতু ব্রিক্স ২, কুলবাড়িয়ার বাহার ব্রিক্স, গুটুদিয়ায় হাসান ব্রিক্স তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ভাটার অধিকাংশ মালিক নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতাদের। সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ ছিলেন, ডুমুরিয়া উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি। 

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার বলেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ি অবৈধ ও পরিবেশ বিধংসী ইট ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার বিভাগীয় পরিচালক মোঃ সাদিকুল ইসলাম জানালেন, প্রতিবছর ইটভাটা পরিচালনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। এবার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে ছাড়পত্র দেয়া হবে না।
  
খুলনা জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, কোনভাবেই পরিবেশ বিধংসী ইটভাটা পরিচালনা করতে দেয়া হবে না। তাছাড়া নদীর চর দখল করে ভাটা স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। 

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়