News Bangladesh

সুমন মুখার্জী, নীলফামারী থেকে || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:২৭, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

থাকেন গুহায়, ১২ বছর কথা না বলার প্রতিজ্ঞা রঞ্জিত সাধুর!

থাকেন গুহায়, ১২ বছর কথা না বলার প্রতিজ্ঞা রঞ্জিত সাধুর!

ছবি: নিউজবাংলাদেশ

নাম তার রঞ্জিত কুমার রায়। বয়স ৫৫ ঊর্ধ্ব। এলাকার মানুষের কাছে ‘রঞ্জিত সাধু’ নামে পরিচিত। সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করতে বেছে নিয়েছেন এক কঠোর তপস্যা! প্রায় ১০ ফুট মাটির নিচে কৃত্রিম গুহায় বসবাস করেন তিনি। ১২ বছর কথা না বলে এবং শাক-সবজি, ফলমূল খেয়ে জীবন নির্বাহ করার প্রতিজ্ঞা করেছেন রঞ্জিত সাধু। 

নিজের প্রয়োজনে কোনকিছু দরকার হলে তা ইশারায় ও খাতায় লিখে জানান। এজন্য কথা বলেন না কারো সঙ্গে। তার বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল বাইটকা টারির এলাকায়। প্রায় ৪ বছর থেকে ওই এলাকার দেওনাই নদীর তীরে থাকেন তিনি। রঞ্জিতের পরিবারে রয়েছেন তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিজের কৃষি জমি বন্ধক দিয়ে ভারতের বিভিন্ন তীর্থস্থান দেখতে যান তিনি। ২০২০ সালের শুরুর দিকে ভারতে সর্বতীর্থ শেষে বাড়িতে ফিরে ১২ বছরের জন্য মৌনব্রত পালন করার সিদ্ধান্ত নেন রঞ্জিত। এরপর বাড়ির পাশে দেওনাই নদীর তীরের বালু চরে পলিথিনের বেড়া ও ছাউনির দিয়ে একটি ঝুঁপড়ি ঘর তৈরি করে মৌনব্রতে বসেন  রঞ্জিত। 

হাওর ও নদীর মাছ বাজারে উঠতেই উধাও

পরবর্তী সময়ে বৃষ্টি ও ঝড়ে ঘরটি ভেঙে গেলে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মাটির নিচে প্রায় ১০ ফুট মাটির নিচে গোলাকার কৃত্রিম গুহা তৈরি করেন তিনি।

কথা হয় রঞ্জিত সাধুর ছেলে হীরেন্দ্র নাথ রায়ের সাথে। তিনি নিউজবাংলাদেশকে বলেন, বাবা ভারত থেকে ফিরে আসার পর আমাদের জানালেন, তিনি আগামী ১২ বছর বাড়িতে থাকবেন না এবং কারো সঙ্গে কথাও বলবেন না। আরও জানালেন, তিনি ভাতও খাবেন না। প্রথমদিকে একটু খারাপ লাগলেও এখন আর কষ্ট হয় না। বাবা পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতে আসেন না। আমরাই মাঝে মধ্যে বাবার সাথে দেখা করতে ওইখানে যাই। তিনি কথা বলেন না, তবে কোনো প্রয়োজন বা বার্তা থাকলে তা খাতার পাতায় লিখে কাউকে দিয়ে আমাদের কাছে পৌঁছে দেন।

এ বিষয়ে খাতার পাতায় রঞ্জিত সাধু লিখে জানান, সংসার আসলে কামনা-বাসনার বন্ধন। বারো বছর অতিক্রান্ত হলেও তিনি আর সংসারে ফিরে যাবেন না। নির্ধারিত সময় শেষে তখনই তিনি সবার সঙ্গে কথা বলবেন। তার ইচ্ছা, এই স্থানেই তিনি জীবনের শেষ অধ্যায় কাটাতে চান। তাকে যেন কোনোভাবেই আবার সংসারে ফিরিয়ে নেওয়া না হয়। সে কারণেই তিনি বারো বছর সংসার জীবন থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি কামনা-বাসনা পরিত্যাগ করেছেন, ত্যাগ করেছেন পরিবারের মায়া-মোহও। ৃ

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়