বিনোদন ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:১৮, ১০ জুন ২০২৬

আবার ময়নাতদন্তের মুখোমুখি সালমান শাহর মরদেহ

আবার ময়নাতদন্তের মুখোমুখি সালমান শাহর মরদেহ

ফাইল ছবি

বাংলা চলচ্চিত্রের নব্বই দশকের আইকন ও অকাল প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যুর দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর মামলার তদন্তে এক যুগান্তকারী মোড় এসেছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে প্রখ্যাত এই চিত্রনায়কের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মরদেহ উত্তোলনপূর্বক পুনরায় সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য তদন্তকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এই আদেশ প্রদান করেন। 

মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ২০ মে মামলার প্রকৃত সত্য উন্মোচনের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন। আদালতের এই নির্দেশনার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের ইস্কাটন প্লাজার নিজ বাসভবনে সালমান শাহর মরদেহ পাওয়া যায়। ওই সময় ঘটনাটি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হয়েছিল। ঘটনার পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয় এবং ময়নাতদন্ত শেষে সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় নতুন করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের রিভিশন আদেশের প্রেক্ষিতে অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার ৫০ শহরে মুক্তি পাচ্ছে ‘রইদ’

মামলার এজাহার ও তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনে তৎকালীন সময়ের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। বাদীর ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন সকালে সালমানের স্ত্রী সামীরা হক ও বাড়ির কর্মচারী আবুল তাদেরকে জানিয়েছিলেন যে সালমান শাহ ঘুমাচ্ছেন। পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসা থেকে জরুরি কল পেয়ে তারা গিয়ে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন। সেই সময় সেখানে কয়েকজন বহিরাগত নারীকে তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করতে দেখা গিয়েছিল এবং পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সালমানের মা নিলুফা জামান চৌধুরী নীলা চৌধুরীসহ স্বজনরা তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পেয়েছিলেন, যা তৎকালীন তদন্তে সঠিকভাবে উঠে আসেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

নতুন করে দায়ের করা এই হত্যা মামলায় সালমানের স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার দাবি, আগের ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল, যা প্রকৃত মৃত্যুর কারণ রহস্যে ধামাচাপা দেয়। তাই নতুন করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত ও পুনরায় ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মামলার জট খোলা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

সালমান শাহর বাবা মরহুম কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তৎকালীন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা হিসেবে তদন্তের জন্য আবেদন করেছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ আলমগীর। অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে, তবে পলাতক ও এজাহারনামীয় আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগটিই বর্তমান তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু। আদালতের এই নতুন নির্দেশের ফলে বাংলা চলচ্চিত্রের এই জনপ্রিয় নায়কের মৃত্যু রহস্য নিয়ে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা কেটে যাবে বলে আশা করছেন তার ভক্ত ও স্বজনরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়