বিনোদন ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৪৩, ৪ জুন ২০২৬

শাকিব খানের রাজত্বে শনির দশা, পাইরেসির কবলে ‘রকস্টার’

শাকিব খানের রাজত্বে শনির দশা, পাইরেসির কবলে ‘রকস্টার’

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাই চলচ্চিত্রের অঘোষিত ‘কিং খান’ বা রাজা বলা হয় তাকে। গত দেড় দশক ধরে ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে একক রাজত্ব চালিয়ে আসছেন শাকিব খান। কিন্তু সময়ের আবর্তে সেই সুবর্ণ রাজ্যে যেন তীব্র শনির দশা ভর করেছে। একের পর এক বিগ বাজেটের ছবি ফ্লপ হওয়া এবং মুক্তির পরপরই তা পাইরেসির কবলে পড়ায় শাকিব খানের ক্যারিয়ার এখন এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। গেল ঈদুল ফিতরে চড়া বাজেটে নির্মিত ‘প্রিন্স’ সিনেমাটি দিয়ে যে হতাশার শুরু হয়েছিল, ঈদুল আজহার বহুল প্রতীক্ষিত ‘রকস্টার’ দিয়েও সেই বৃত্ত থেকে বের হতে পারলেন না এই শীর্ষ নায়ক। ফলে ঢালিউডের এই শীর্ষ তারকার ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ এবং সামগ্রিক বাজার দর নিয়ে চলচ্চিত্র পাড়ায় এখন নানামুখী গুঞ্জন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত রোজার ঈদে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল শাকিব খানের বিগ বাজেটের সিনেমা ‘প্রিন্স’। হল মালিক থেকে শুরু করে বুকিং এজেন্ট সবার ধারণা ছিল ছবিটি বক্স অফিসে ঝড় তুলবে। কিন্তু দুর্বল নির্মাণ আর দর্শক চাহিদার সাথে খাপ খাওয়াতে না পারায় সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ‘প্রিন্স’-এর এই বড় ধাক্কা সামলে উঠতে শাকিব ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা চাতক পাখির মতো চেয়ে ছিলেন কোরবানি ঈদের দিকে। 

আশা করা হয়েছিল, সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার মিউজিক্যাল ড্রামা ‘রকস্টার’ সিনেমাটি দিয়ে শাকিব খান আবারও বক্স অফিসে রাজকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়াবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উল্টো চিত্র। মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে ছবিটি। ঈদের মতো বড় মৌসুমেও দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ঢিমেতালে চলছে ‘রকস্টার’। সিনেমাটির এমন মন্দা দশা এবং আশানুরূপ ব্যবসা করতে না পারায় হল মালিকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। 

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ‘রকস্টার’ মূলত একটি মিউজিক-নির্ভর সিনেমা হলেও এর একটি গানও শ্রোতাপ্রিয় বা হিট তকমা পায়নি, যা এই প্রজেক্টের পেছনে থাকা বড় ধরনের ব্যর্থতার একটি অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দেশীয় বাজারে আশানুরূপ ব্যবসা না হওয়ায় বিকল্প পথ খুঁজছিলেন সিনেমাটির প্রযোজক ও পরিবেশকরা। দেশের গুমোট ও ঝিমিয়ে পড়া রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে বিদেশের মাটিতে ‘রকস্টার’ মুক্তির জোর প্রস্তুতি চলছিল। ভাবা হয়েছিল, প্রবাসী বাঙালিদের হাত ধরে বিদেশি বক্স অফিসের আয় দিয়ে অন্তত লগ্নি বা খরচের একটি বড় অংশ তুলে এনে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি দিয়ে ধেয়ে এলো আরও এক বড় দুঃসংবাদ। মুক্তির এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই ‘রকস্টার’ সিনেমাটি ভয়াবহ পাইরেসির শিকার হয়েছে। 

আরও পড়ুন: ১০৩ প্রেক্ষাগৃহে চলছে শাকিব খানের ‘রকস্টার’

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফেসবুক গ্রুপ, টেলিগ্রাম চ্যানেল এবং একাধিক অবৈধ অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটির পুরো এইচডি (HD) কপি ছড়িয়ে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন স্ক্রিনশট ও পোস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সুনির্দিষ্ট কিছু চক্র বিভিন্ন লিংকের মাধ্যমে সিনেমাটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বিনামূল্যে শেয়ার করছে। দেশের বাজারে লোকসানের পর এই পাইরেসির ধাক্কায় সিনেমাটির আন্তর্জাতিক বাজারও এখন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

শাকিব খানের সিনেমার ক্ষেত্রে পাইরেসি নতুন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি এখন একটি নিয়মিত ও আশঙ্কাজনক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। এর আগে তার অভিনীত এবং তুমুল আলোচিত সিনেমা ‘প্রিন্স’, ‘বরবাদ’ ও ‘তাণ্ডব’সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র মুক্তির পরপরই একইভাবে পাইরেসি চক্রের কবলে পড়েছিল। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলেও চলচ্চিত্র প্রশাসন বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সাধারণ দর্শকরা। 

এদিকে নিজের ক্যারিয়ারের এত বড় বিপর্যয় এবং সিনেমাটি পাইরেসির শিকার হওয়া সত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত ‘রকস্টার’ সিনেমার পরিচালক আজমন রুশো কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বা আইনি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হলেও পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া বা প্রতিক্রিয়া মেলেনি, যা পুরো বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

আজমন রুশো পরিচালিত ‘রকস্টার’ সিনেমাটিতে শাকিব খানের সঙ্গে প্রধান নারী চরিত্রে জুটি বেঁধেছিলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর। এছাড়াও গ্ল্যামার ও ভিন্নতা যোগ করতে সিনেমাটিতে যুক্ত করা হয়েছিল তানজিয়া জামান মিথিলা ও সুনিধি নায়েককে। 

ছবিটিতে শুধু শাকিব খানই নন, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেশের একঝাঁক শক্তিমান ও গুণী তারকা। যার মধ্যে রয়েছেন তারিক আনাম খান, আহমেদ হাসান সানি, জাহিদ নিরব, পান্থ কানাই, কাজী সাবির, রোজী সিদ্দিকী এবং দিলারা জামান। এত বিশাল ও তারকাবহুল কাস্টিং থাকা সত্ত্বেও চিত্রনাট্যের দুর্বলতা এবং যথাযথ প্রচারণার অভাবে সিনেমাটি দর্শকদের মন জয় করতে পারেনি। 

চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের মতে, ঢাকাই সিনেমার রাজাকে যদি তার সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে হয়, তবে গল্প নির্বাচন ও সাইবার নিরাপত্তা উভয় ক্ষেত্রেই এখন আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়