News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:০৫, ৪ মার্চ ২০২৬
আপডেট: ১৫:০৬, ৪ মার্চ ২০২৬

দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে কারিগরি শিক্ষায় সংস্কারের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে কারিগরি শিক্ষায় সংস্কারের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। 

তিনি বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কারিগরি শিক্ষাকে আধুনিক, যুগোপযোগী এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করা ছাড়া বিকল্প নেই। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) জোরদার, শিল্পখাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন এবং দ্রুততম সময়ে কারিকুলাম ও সিলেবাস আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বুধবার (০৪ মার্চ) সকাল ১০টায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। পরে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের এই জনশক্তিকে যথাযথ দক্ষতায় রূপান্তর করা গেলে তা অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে। উন্নত বিশ্বের বহু দেশে জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে- এ বাস্তবতায় বাংলাদেশের বৃহৎ জনসংখ্যা একটি বড় সুযোগ। এই জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি শক্তিশালী মানবসম্পদসমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।

কারিগরি শিক্ষাকে সময়োপযোগী করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) জোরদার, শিল্পখাত (ইন্ডাস্ট্রি) ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (একাডেমিয়া)-এর মধ্যে কার্যকর ও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তোলা এবং কারিকুলাম ও সিলেবাস আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। 

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ, শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বয় এবং বাজারমুখী কারিকুলাম প্রণয়নে কিছু দুর্বলতা রয়েছে, যা দ্রুত চিহ্নিত করে দূর করতে হবে।

তিনি জানান, কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন সূচক ও কেপিআই (Key Performance Indicators) প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে এগুলো আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। বিশেষ করে কারিগরি, ভোকেশনাল ও পলিটেকনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অতিরিক্ত তাত্ত্বিক শিক্ষার পরিবর্তে ব্যবহারিক ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এজন্য কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণব্যবস্থার সার্বিক ও যথাযথ পর্যালোচনার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে নিজ নিজ বিভাগ, প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ প্রয়োজন তা নিজেরাই নির্ধারণ করতে হবে। গতানুগতিক পদ্ধতিতে কাজ করলে চলবে না; নতুন উদ্যম, উদ্দীপনা ও দ্রুতগতিতে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। প্রত্যেকের নিজস্ব লক্ষ্য, কর্মপরিকল্পনা ও দায়িত্ববোধ থাকা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য বাস্তবায়নে কারিগরি শিক্ষা খাতকে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভা শেষে দেশের উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়