জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি ‘চুয়া সেলিম’ গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের অপরাধ জগতের অন্যতম নিয়ন্ত্রক ও শীর্ষ মাদক কারবারি সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিমকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোর রাতে র্যাব-২-এর সিপিএসসির কোম্পানি কমান্ডার হাসান মুহতারিমের নেতৃত্বে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাকে তার গোপন আস্তানা থেকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন গোপন আস্তানা ব্যবহার করে মাদক ও অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন এই শীর্ষ সন্ত্রাসী।
জেনেভা ক্যাম্পের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত ঘিঞ্জি এবং জটিল হওয়ার কারণে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা বরাবরই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। ক্যাম্পের ভেতরে অপরাধীরা সবসময় সতর্ক অবস্থানে থাকে এবং অভিযানের খবর আগেভাগেই পেয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে র্যাব-২-এর এই অভিযানে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করায় চুয়া সেলিমকে সফলভাবে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, চুয়া সেলিমের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা ও মাদকসহ একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলো বিচারাধীন।
চুয়া সেলিমের গ্রেফতারের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে, কারণ মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার অপরাধ জগতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের একটি সিন্ডিকেটের যোগসূত্র রয়েছে তার।
আরও পড়ুন: মাদকবিরোধী অভিযানে জেনেভা ক্যাম্পে গাঁজা-ইয়াবাসহ আটক ৩
র্যাবের তথ্যানুযায়ী, জেনেভা ক্যাম্পে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। এর আগেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে র্যাব তাকে গ্রেফতার করেছিল। সে সময় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল যে, ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চুয়া সেলিম ও বুনিয়া সোহেল এই দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী বিরোধ ও সংঘর্ষ চলে আসছিল। ২০২৬ সালের বিভিন্ন নিরাপত্তা প্রতিবেদনেও মাদক ব্যবসা ও আধিপত্যের জেরে ক্যাম্পের একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যকার অস্থিরতার কথা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, যেখানে চুয়া সেলিম, বুনিয়া সোহেল এবং পিচ্চি রাজাকে অন্যতম প্রধান চরিত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে র্যাব-২-এর কোম্পানি কমান্ডার হাসান মুহতারিমের নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং লিডারদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবেই চলতি বছরের জুলাই মাসে চুয়া সেলিমের এক বিশ্বস্ত ম্যানেজারকে একটি দেশীয় পিস্তলসহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর সেই সহযোগী স্বীকার করে যে, সে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতির সময় আটক হয়েছে এবং সে চুয়া সেলিমের নির্দেশে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চুয়া সেলিমের মতো প্রভাবশালী মাদক কারবারিদের গ্রেফতারের মাধ্যমে জেনেভা ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক ব্যবসার মূল শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব হবে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে র্যাব।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, চলমান এই ধারাবাহিক অভিযানে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকা দীর্ঘমেয়াদী শান্তিতে ফিরবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








