তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:৫৩, ২১ আগস্ট ২০২৬
আপডেট: ১০:৫৪, ২১ আগস্ট ২০২৬

শিশুদের জন্য ‘আসক্তিকর’ ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম, মেটার বিরুদ্ধে বিচার শুরু

শিশুদের জন্য ‘আসক্তিকর’ ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম, মেটার বিরুদ্ধে বিচার শুরু

প্রতীকী ছবি

শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্ল্যাটফর্মকে অতিরিক্ত আকর্ষণীয় করে তোলার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে ১৮ আগস্ট শুরু হওয়া এ মামলায় ২৯টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে শিশু-কিশোরদের জন্য আসক্তিকরভাবে ডিজাইন করা এবং যথাযথ অনুমতি ছাড়া তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ এনেছে।

মামলার নেতৃত্বে থাকা চার অঙ্গরাজ্য- ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সির অভিযোগ, মেটা তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক দুর্বলতা এবং সামাজিক স্বীকৃতির প্রতি তাদের সংবেদনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘসময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার কৌশল নিয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখা, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা এবং প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা ছিল মেটার ব্যবসায়িক কৌশলের অন্যতম অংশ। একই সঙ্গে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে।

মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশন মেটার অভ্যন্তরীণ নথি ও গবেষণার বিষয়ও তুলে ধরেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মেগান ওনিল দাবি করেন, মেটা শিশু-কিশোরদের মস্তিষ্কের পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রবণতা, সামাজিক স্বীকৃতির প্রতি সংবেদনশীলতা এবং অপরিণত আত্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে গবেষণা করেছিল।

সাবেক মেটা নিরাপত্তা প্রকৌশলী আর্টুরো বেজারও সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার দাবি, দ্রুত পণ্য বাজারে আনার প্রতিযোগিতামূলক সংস্কৃতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার হারাত।

তবে মেটা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী পল স্মিট আদালতে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কিছু ব্যবহারকারী সমস্যার মুখোমুখি হলেও শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং তাদের সামগ্রিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যে সরাসরি কারণগত সম্পর্ক এখনো গবেষণায় নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ব্যবহারকারীদের সম্ভাব্য ক্ষতিকর অভিজ্ঞতা কমাতে মেটা ইতোমধ্যে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

মেটার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আর্থিক জরিমানার পরিমাণ নিয়েও দুই পক্ষের হিসাবের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। মেটার হিসাবে, সম্ভাব্য আর্থিক জরিমানা সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনজীবীরা প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

এ ছাড়া ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের লাইক এবং ইনফিনিট স্ক্রল-এর মতো ফিচারে পরিবর্তন আনা, কিশোরদের ব্যবহারে সময়সীমা নির্ধারণ এবং ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার থেকে বিরত রাখার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে অঙ্গরাজ্যগুলো।

আদালতে আট সদস্যের জুরি একটি পরামর্শমূলক রায় দেবে। তবে চূড়ান্ত দায় নির্ধারণের এখতিয়ার থাকবে বিচারক ইভন গনজালেজ রজার্সের হাতে। বিচারপ্রক্রিয়া প্রায় ছয় থেকে আট সপ্তাহ চলতে পারে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এলো গুগলের ট্যাপ টু শেয়ার

মামলায় মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরির সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়