নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:০৭, ৬ আগস্ট ২০২৬

সবুজবাগে কালভার্টের নিচে মিলল তরুণীর খণ্ডিত মরদেহ

সবুজবাগে কালভার্টের নিচে মিলল তরুণীর খণ্ডিত মরদেহ

ফাইল ছবি

রাজধানীর সবুজবাগের মাদারটেক বাগানবাড়ি এলাকার একটি কালভার্টের নিচ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণীর অর্ধগলিত খণ্ডিত মরদেহের অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অংশের মধ্যে রয়েছে মাথা ও দুই হাত। তবে শরীরের বাকি অংশ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। 

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক আলামত ও মরদেহের অবস্থার ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ২ থেকে ৩ দিন আগে ওই তরুণীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরিচয় গোপন ও হত্যার আলামত নষ্ট করতেই এমনটি করা হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে সবুজবাগ থানা পুলিশ মাদারটেক বাগানবাড়ি খালপাড়ের কালভার্ট ব্রিজের নিচে অভিযান চালায়। সেখানে ময়লার স্তূপের মধ্যে থাকা একটি শপিং ব্যাগ থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় তরুণীর মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত দেহাংশ দেখে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, নিহতের বয়স আনুমানিক ২০ বছর।

সবুজবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া অংশগুলো কয়েক দিন আগের হওয়ায় সেগুলো অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। এখন পর্যন্ত মাথা ও দুই হাত ছাড়া শরীরের অন্য কোনো অংশ পাওয়া যায়নি। আশপাশের এলাকা, ড্রেন, খাল এবং সম্ভাব্য স্থানগুলোতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মরদেহ যেহেতু খণ্ডিত অবস্থায় পাওয়া গেছে, তাই ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকাণ্ডটি অন্য কোথাও সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে এবং পরে মরদেহের অংশ এনে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কলাবাগানে স্ত্রী-শাশুড়ি খুন, জামাই আটক

তিনি আরও জানান, নিহত নারীর পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক ও ক্রাইম সিন বিশেষজ্ঞ দলকে ডাকা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া হাতের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে জাতীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হলে সে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। কে বা কারা শপিং ব্যাগটি সেখানে ফেলে গেছে, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা, দোকানদার এবং আশপাশে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। হত্যাকাণ্ডের সময়, স্থান এবং ব্যবহৃত যানবাহন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহেও কাজ চলছে।

সবুজবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, দেহাংশ উদ্ধারের পর তা আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যার ধরন, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং দেহ খণ্ডিত করার বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ একটি পূর্ণাঙ্গ মরদেহ খণ্ডিত করে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং আলামত গোপনের চেষ্টা একক ব্যক্তির পক্ষে কঠিন হতে পারে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।

এ ঘটনায় সবুজবাগ থানায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং জড়িতদের গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ, সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলো। 

প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়