News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৫২, ৯ মার্চ ২০২৬

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের প্রবাসী নিহত

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের প্রবাসী নিহত

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের আল-খারজ শহরে এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মোশারফ হোসেন (৪০) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। 

রবিবার (০৮ মার্চ) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় ৯টা) আল-তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ইফতারের আগমুহূর্তে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। 

পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিহত মোশারফ হোসেন সখীপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কীর্তনখোলা মধ্যপাড়া গ্রামের সুজাত (বা সুরজত) আলীর ছেলে। তিনি সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরে আল-তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার স্থানীয় সময় আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইফতারের আগমুহূর্তে তার কর্মস্থলের ক্যাম্প এলাকায় মিসাইল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, আল-খার্জ গভর্নরেটের একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, যে এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে সেখানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

আরও পড়ুন: ঈদের পোশাক কিনতে এসে দেয়াল ধসে শিক্ষার্থী নিহত, আহত ৫

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় আট বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান মোশারফ হোসেন। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের খরচ চালাতেন তিনি। সর্বশেষ তিন বছর আগে তিন মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন এবং এরপর আবার কর্মস্থলে ফিরে যান।

সংসার জীবনে তিনি দুই ছেলের জনক। বড় ছেলে মাহিম স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে মিহান প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। 

পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও বড় ছেলে মাহিমের সঙ্গে তার ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। তখন তিনি ছেলেকে বলেন, ঈদের কাপড় কেনার জন্য যা লাগে কিনে নিতে এবং ইফতারের পর টাকা পাঠাবেন।

নিহতের স্ত্রী কবরী আক্তার বলেন, ঘটনার আগের রাতেও স্বামীর সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, ঈদের জন্য টাকা পাঠাবেন এবং ছেলেদের জন্য কিছু কিনে দিতে। কিন্তু সেটিই যে তাদের শেষ কথা হবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি।

রাত প্রায় ৩টার দিকে স্বজনদের মাধ্যমে মোশারফ হোসেনের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর থেকেই পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। নিহতের মা জহুরা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। ছোট ছেলে মিহান নানার কোলে বসে চারপাশের মানুষের কান্না দেখছে- এখনো হয়তো বুঝে উঠতে পারেনি, তার বাবা আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না।

এদিকে সোমবার (০৯ মার্চ) সকালে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রনী নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন।

তিনি জানান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় মোশারফ হোসেন প্রবাসে গিয়েছিলেন। কিন্তু এই দুর্ঘটনায় সবকিছুই শেষ হয়ে গেছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়