নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:১৬, ৫ আগস্ট ২০২৬

ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে রণক্ষেত্র তোলারাম কলেজ, আহত ৫

ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে রণক্ষেত্র তোলারাম কলেজ, আহত ৫

ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জে তোলারাম কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। 

প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচ থেকে সাতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এই সহিংসতাকে কেন্দ্র করে চাষাঢ়া ও কলেজ রোড সংলগ্ন এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।  

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের সরকারি তোলারাম কলেজের অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই সভায় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের আমন্ত্রিত নেতারা বক্তব্য প্রদানকালে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারা একে অপরকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। এই বাকবিতণ্ডা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর পরই কলেজ প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে তা কলেজ রোড ও চাষাঢ়া এলাকায় সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা, বাঁশ ও লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রের মহড়া দেখা যায়।  

খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি বিশাল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান জানান, দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর পুলিশ উভয়পক্ষকে চাষাঢ়ার কলেজ রোড থেকে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের চার-পাঁচজন আহত হলেও তাদের জখম বা আঘাত মারাত্মক বা আশঙ্কাজনক নয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। 

আরও পড়ুন: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ১০

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল এবং নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর দুই সংগঠনের পক্ষ থেকেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান অভিযোগ করেন যে, তোলারাম কলেজের ভেতরে তাদের পূর্বনির্ধারিত ও শান্তিপূর্ণ উপস্থিতির সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় মহানগর সভাপতি নিজে মাথায় আঘাত পান এবং কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল ও অর্থ সম্পাদক জুহাজ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তিনি জানান। 

অন্যদিকে, তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া দাবি করেন, সভায় ছাত্রশিবিরের নেতারা অহেতুক ও উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দিয়ে ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করেন। ক্যাম্পাসের সহাবস্থান বজায় রাখার কথা বলতে গেলে ছাত্রদলের কর্মী তুহিন আহমেদ ও রবিনের ওপর হামলা চালানো হয়, যার ফলে তারাও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। 

এদিকে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর পুলিশ ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের এলাকা থেকে সরিয়ে দিলেও ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা কলেজ রোড, জামতলা, চাষাঢ়া ও কালিরবাজার এলাকায় লাঠিসোঁটা হাতে মিছিল ও সংক্ষিপ্ত মহড়া দেন। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়কাতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

ডিবি প্রধান মো. হাসিনুজ্জামান আরও জানান যে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ও বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধারাবাহিক সংঘাতের অংশ হিসেবেই নারায়ণগঞ্জের এই তোলারাম কলেজ চত্বরেও রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়