News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:৩৯, ৮ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি সংকটে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু

জ্বালানি সংকটে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু

ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশে তেলের রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই নতুন বণ্টন নীতিমালা কার্যকর করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, মূলত কৃত্রিম সংকট রোধ এবং তেলের অপচয় কমিয়ে আনতেই যানবাহনভেদে তেলের দৈনিক সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (০৮ মার্চ) সকাল থেকেই সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকর শুরু হয়েছে।

নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ কত লিটার তেল নেওয়া যাবে তা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, এ বিষয়ে পেট্রোল পাম্পগুলোর জন্য লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হবে। 

গত শুক্রবার (০৬ মার্চ) রাজধানীর পরীবাগ এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের অস্থিরতা এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য নির্ধারিত হয়েছে ১০ লিটার। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি), জিপ বা মাইক্রোবাসের জন্য দৈনিক ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রবিবার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি

ডিজেলচালিত যানবাহনের ক্ষেত্রেও একইভাবে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় রুটের বাস বা পিকআপ ভ্যান প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনারবাহী ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেলের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পাম্পগুলোকে নতুন নিয়ম অনুসরণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের বণ্টন ব্যবস্থা তদারকিতে আজ থেকে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটজনিত কারণে অনেক সময় আমদানি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব বা জটিলতা দেখা দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের মজুদ নিয়ে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ডিলাররা আগের তুলনায় বেশি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

সরকার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও সরকার আশ্বস্ত করেছে। 

জ্বালানি মন্ত্রী জানান, আগামী ৯ মার্চ আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ সারি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেওয়ার পর সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বারবার আশ্বাস দিচ্ছে। একই সঙ্গে পাম্পগুলো যাতে নির্ধারিত পরিমাণের বেশি তেল বিক্রি না করে, রেশনিং ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বৈষম্য না ঘটে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয় সেজন্য কঠোর নজরদারিও চালানো হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়