স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন
ফাইল ছবি
দেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যমান লটারি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী ভর্তি পদ্ধতি বাতিল করেছে সরকার। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক আদেশে লটারি প্রথা বিলুপ্তির এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুন্না রাণী বিশ্বাস স্বাক্ষরিত ওই আদেশে জানানো হয়েছে, বর্তমানে সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে লটারির মাধ্যমে যে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা ২০২৭ সাল থেকে আর বহাল থাকবে না। শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতেই সরকার এই আমূল পরিবর্তনের পথে হেঁটেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, লটারি পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলে ইতঃপূর্বে গত ১৩ ও ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকে লটারির পরিবর্তে সম্পূর্ণ নতুন কোনো পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
আরও পড়ুন: ভর্তিতে লটারি বাদ, ফিরছে মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষা
লটারি পদ্ধতি বাতিলের পর পরবর্তী ভর্তি প্রক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়ে শিক্ষা মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লটারির বিকল্প হিসেবে মেধা যাচাই বা অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই এই নতুন ও আধুনিক ভর্তি কাঠামো দাঁড় করানো হবে।
গত সোমবার (১৬ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং একটি প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতেই লটারি পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাই যেখানে মেধার মূল্যায়ন হবে এবং যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী বছরের পর থেকে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে, যা শিক্ষার গুণগত মানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








