News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:০৭, ১৭ মার্চ ২০২৬

‘জনমত উপেক্ষা করে ভর্তি লটারি বাতিল হঠকারী সিদ্ধান্ত’

‘জনমত উপেক্ষা করে ভর্তি লটারি বাতিল হঠকারী সিদ্ধান্ত’

ফাইল ছবি

স্কুল পর্যায়ে ভর্তিতে প্রচলিত লটারি পদ্ধতি বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘জাতীয় শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলন’। সংগঠনটি মনে করে, জনমতের তোয়াক্কা না করে হুটহাট নেওয়া এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় পুনরায় ভর্তি-বাণিজ্য, বৈষম্য এবং কোচিং ব্যবসার আধিপত্য ফিরিয়ে আনবে। 

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সংগঠনটির আহ্বায়ক মাহমুদ সেলিম ও সদস্য সচিব রুস্তম আলী খোকন এক যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষানীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তা জনমতের প্রতিফলনকে উপেক্ষা করার শামিল হবে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভর্তি বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি, অতিরিক্ত কোচিং নির্ভরতা, বাছাইভিত্তিক শিক্ষার্থী গ্রহণের প্রবণতা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অযৌক্তিক মানসিক চাপ কমানো। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচনের এই পদ্ধতি শিক্ষা ব্যবস্থায় তুলনামূলক স্বচ্ছতা ও সমতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে দাবি করা হয়।

আরও পড়ুন: ‘যে যখন, তখন তেমন’ নীতির অবসান চায় জাতীয় শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলন

তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো বিস্তৃত পরামর্শ বা অংশীজনদের মতামত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে, যা শিক্ষা খাতে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। শিক্ষা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ও সর্বজনীন পদ্ধতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিগ্রহ, জোরপূর্বক বহিষ্কার এবং তথাকথিত ‘মব ভায়োলেন্স’-এর মতো ঘটনাগুলো শিক্ষাঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এসব ঘটনার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনা, অন্যায়ভাবে অপসারিত শিক্ষকদের পুনর্বহাল এবং শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাকে সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলেও তারা মনে করেন।

একইসঙ্গে ২০১০ সালের প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতির আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী শিক্ষা ব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। প্রযুক্তিনির্ভর নতুন ধারণা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে না পারলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

সামগ্রিকভাবে, শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং অংশীজনভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলনের নেতারা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়