ভর্তিতে লটারি বাদ, ফিরছে মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষা
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা ‘লটারি পদ্ধতিতে’ শিক্ষার্থী ভর্তির নিয়ম বাতিল হতে যাচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব স্তরেই সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। লটারি পদ্ধতিতে মেধার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না- শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের এমন দাবির প্রেক্ষিতেই সরকার এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শুধুমাত্র প্রথম শ্রেণিতে লটারি পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে বেসরকারি স্কুলগুলোও এই পদ্ধতির আওতায় আসে। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া বরাবরই পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন হতো। পরবর্তী সময়ে, করোনা মহামারির উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়, যা বর্তমান সময় পর্যন্ত বলবৎ ছিল।
আরও পড়ুন: পর্যায়ক্রমে সব স্কুলে ‘মিড ডে মিল’ চালুর ঘোষণা গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর
মন্ত্রণালয়ের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বছর থেকে এই ‘লটারি প্রথা’ পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে এবং সব শ্রেণিতে পুনরায় মেধা যাচাইয়ের ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, এই ভর্তি পরীক্ষা অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াও উচ্চশিক্ষা স্তরের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের শূন্য থাকা উপাচার্য (ভিসি) পদের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজই এই নিয়োগের বিষয়ে সুরাহা হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন উপাচার্যদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে।
এদিকে দেশের শিক্ষা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে আরও একটি রদবদল ঘটেছে। সোমবার সকালেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস. এম. এ. ফায়েজ তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বার্তায় জানানো হয়েছে, বিকেলের এই ব্রিফিংয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সরকার মনে করছে, লটারি পদ্ধতি বাতিলের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার গুণগত মান এবং প্রতিযোগিতামূলক মেধা বিকাশের পরিবেশ ফিরে আসবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








