৪৬ বছর পর এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ, চীনের বিপক্ষে পিছিয়ে ২-০
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ৪৬ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এশিয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে ফিরল বাংলাদেশ। ১৯৮০ সালে পুরুষ দল সর্বশেষ এশিয়ান কাপে অংশ নিলেও, এবার নারীদের হাত ধরে মহাদেশীয় এই আসরে লাল-সবুজের পতাকা উড়ল সিডনির ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে (কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়াম)। নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী চীনের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তের ঝড়ে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দুপুর দুইটায় শুরু হওয়া এই ম্যাচটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
১৯৮০ সালের সেই আসরে সালাউদ্দিনরা চারটি ম্যাচই হেরেছিলেন, কিন্তু এবার নারী দলের হাত ধরে নতুন স্বপ্ন দেখছে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। ম্যাচে বড় চমক ছিল কোচ পিটার বাটলারের একাদশ নির্বাচন। দলের সেরা গোলরক্ষক রূপনা চাকমা এবং অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড তহুরা খাতুনকে বেঞ্চে রেখে রক্ষণাত্মক কৌশলে দল সাজান তিনি। রূপনার পরিবর্তে গোলপোস্টে দায়িত্ব পান তরুণ মিলি আক্তার। মূলত উচ্চতার সুবিধা নিতেই চীন বধের মিশনে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৭তম স্থানে থাকা চীনের বিপক্ষে ১১২তম স্থানে থাকা বাংলাদেশের লড়াইটা ছিল অসম। তবুও কিক অফের পর থেকেই হাইলাইন ডিফেন্সে খেলা চীনের সাথে সমানে সমান পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করেছে মারিয়া মান্দারা। ম্যাচের ১৪ মিনিটে পুরো স্টেডিয়ামকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা চাকমা। মাঝমাঠ থেকে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার বাঁ-পায়ের বুলেট গতির শটটি চীনের জালে ঢোকার মুহূর্তে গোলরক্ষক চেন চেন অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রক্ষা করেন।
আরও পড়ুন: সিডনিতে চীনের বিপক্ষে সাবিনাদের অগ্নিপরীক্ষা
এর আগে ম্যাচের ২৪ মিনিটে একবার বাংলাদেশের জালে বল জড়িয়েছিল চীন। জিন কুনের ক্রসে হেডে গোল করেছিলেন চীনের মহাতারকা ওয়াং শুয়াং। তবে ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তায় রেফারি পানসা চাইসেইন্ট অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করলে বড় বাঁচা বেঁচে যায় বাংলাদেশ।
ম্যাচের প্রথম ৪০ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশ রক্ষণভাগে দুর্দান্ত দৃঢ়তা দেখালেও প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে খেই হারিয়ে ফেলে। ৪৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার এক বাঁকানো শটে গোল করে চীনকে লিড এনে দেন ওয়াং শুয়াং। প্রথম গোল হজমের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে (৪৬ মিনিট) দ্বিতীয় গোলটি পায় চীন। ঝ্যাং রুইয়ের নেওয়া নিচু শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে পড়ে (আত্মঘাতী)। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে মানসিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
‘বি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে চীনের শারীরিক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার সামনে। তবে প্রথমার্ধে গোলরক্ষক মিলি আক্তারের কয়েকটি সেভ এবং মাঝমাঠে মনিকা চাকমা ও ঋতুপর্ণাদের লড়াই আশা জাগাচ্ছে ফুটবল অনুরাগীদের মনে।
বাংলাদেশ একাদশ: মিলি আক্তার (গোলরক্ষক), শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার (অধিনায়ক), কোহাতি কিসকু, নবিরন খাতুন, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা, উমেহ্লা মারমা ও শামসুন্নাহার সিনিয়র।
চীন একাদশ: চেন চেন, ওয়াং লিনলিন, উ হাইয়ান, ঝ্যাং চেংজু, লু ইয়াটং, ওয়াং সুয়াং, ওয়াং আইফাং, লিউ জিং, ঝ্যাং রুই, উরিংগুমুলা ও জিন কুন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








