News Bangladesh

স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৩৪, ৯ মার্চ ২০২৬

অভিষেক এশিয়ান কাপে শূন্য হাতেই ফিরছে বাংলাদেশ

অভিষেক এশিয়ান কাপে শূন্য হাতেই ফিরছে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মূল মঞ্চে খেলতে গিয়ে এশীয় ফুটবলের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলো বাংলাদেশ। স্বপ্ন ছিল অভিষেক আসরকে রাঙানোর, কিন্তু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারল না পিটার বাটলারের শিষ্যরা। 

চীনের বিপক্ষে ২-০ এবং উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোল ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর সোমবার (০৯ মার্চ) পার্থের রেক্ট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এতে বাংলাদেশ সেরা দুটি তৃতীয় দলের মধ্যে জায়গা করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগও হারিয়েছে।

চীন ও উত্তর কোরিয়ার পর উজবেকিস্তানের কাছে এই হারে তিন ম্যাচে ১১ গোল হজম করে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই অস্ট্রেলিয়া থেকে খালি হাতে ফিরছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরু থেকেই গতির ফুটবলে বাংলাদেশকে চাপে রাখে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা উজবেকিস্তান। মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে উজবেকদের লিড এনে দেন ফরোয়ার্ড দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা। শুরুর ধাক্কা সামলে বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায়। ম্যাচের ৩১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ঋতুপর্ণা চাকমার একটি বাম পায়ের বুলেট গতির শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন উজবেক গোলরক্ষক মাফতুনা জনিমকুলোভা। সমতায় ফেরার সবচেয়ে সহজ সুযোগটি আসে ৪২ মিনিটে; তহুরা খাতুনের বাড়ানো বলে গোলরক্ষককে একা পেয়েও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকু। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫ গোলে হারল বাংলাদেশ

বিরতির পর গোল পরিশোধের লক্ষ্যে কোচ পিটার বাটলার সুইডেনপ্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, শামসুন্নাহার ও প্রীতিকে মাঠে নামালেও খেলার চিত্র বদলায়নি। বরং সময় বাড়ার সাথে সাথে উজবেকদের শারীরিক শক্তি ও গতির কাছে পরাস্ত হতে থাকে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ৬২ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আসা বল ধরে ব্যবধান ২-০ করেন দিলদোরা নোজিমোভা। এর ঠিক চার মিনিট পর ৬৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করে বাংলাদেশের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ৭০ মিনিটে গোলরক্ষক মিলির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে উজবেকিস্তান আরও একবার জালে বল পাঠালেও ভিএআর (VAR) চেক করে ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল করেন রেফারি। তবে ৮৮ মিনিটে নিলুফার কুদ্রাতোভা বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকলে ৪-০ গোলের বড় পরাজয় নিশ্চিত হয়।

পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিলি আক্তার বেশ কিছু দুর্দান্ত সেভ করে প্রশংসা কুড়ালেও তিন ম্যাচে মোট ১১টি গোল হজম করতে হয়েছে তাকে। মাঝমাঠে মারিয়া মান্দা ও আক্রমণে ঋতুপর্ণা চাকমা ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখালেও দলীয় শক্তিতে এশিয়ার পরাশক্তিদের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। মূলত অপর্যাপ্ত প্রস্তুতি, শারীরিক সক্ষমতার ঘাটতি এবং হাই-লাইন ডিফেন্স কৌশলের কারণে বারবার প্রতিপক্ষের কাউন্টার অ্যাটাকের শিকার হয়েছে দল।

গ্রুপ ‘বি’ থেকে তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে চীন। সমান ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ উত্তর কোরিয়া। অন্যদিকে, বাংলাদেশকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট পাওয়া উজবেকিস্তানের সামনে এখন সেরা দুই তৃতীয় দলের একটি হয়ে নকআউটে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়াই ছিল বাংলাদেশের ফুটবলের বড় অর্জন, তবে মাঠের লড়াইয়ে অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্যের পার্থক্য ঘুচিয়ে চমক দেখানো সম্ভব হয়নি। এই আসর থেকে পাওয়া শিক্ষা ভবিষ্যতে বড় মঞ্চে লড়াই করার রসদ জোগাবে বলে মনে করছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়