স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৩১, ৩ অক্টোবর ২০২৬

সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দেবে সরকার

সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দেবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে আহরণ থেকে জেলেদের বিরত রাখতে দেশের সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবারের জন্য ১ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

দেশের ৩৮ জেলার ১৬৮টি উপজেলার ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি জেলে পরিবারকে মানবিক সহায়তা হিসেবে এ চাল দেওয়া হবে। পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-২ শাখা থেকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা এক সরকারি আদেশে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন-৬ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে। এ সময়ে জেলেদের জীবনযাত্রা নির্বাহে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির (ভিজিএফ) আওতায় এসব চাল বিতরণ করা হবে।

বরাদ্দের তালিকায় দেশের ইলিশ আহরণ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জেলার জেলে পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে শরীয়তপুরে ২৬ হাজার ১২৯টি পরিবারকে ৬৫৩ দশমিক ২২৫ মেট্রিক টন, মানিকগঞ্জে ৯ হাজার ২৬২টি পরিবারকে ২৩১ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন এবং রাজবাড়ীতে ৫ হাজার ৫৯২টি পরিবারকে ১৩৯ দশমিক ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের ১৯ হাজার ৪১১টি জেলে পরিবারের জন্য মোট ৪৮৫ দশমিক ২৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাবনায় ৩ হাজার ৫০০টি পরিবারকে ৮৭ দশমিক ৫ মেট্রিক টন, বগুড়ায় ১ হাজার ৮৯০টি পরিবারকে ৪৭ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন এবং নাটোরে ৭৫০টি পরিবারকে ১৮ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে।

এ ছাড়া রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার ১৬ হাজার ১২৬টি জেলে পরিবারের জন্য ৪০৩ দশমিক ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে ৯ হাজার ৬১৬টি পরিবারকে ২৪০ দশমিক ৪ মেট্রিক টন এবং গাইবান্ধায় ৬ হাজার ৫১০টি পরিবারকে ১৬২ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে।

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দ পাওয়া ভিজিএফ চাল নির্বাচিত ও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মধ্যে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুযায়ী বিতরণ করতে হবে। ৭ অক্টোবরের মধ্যে চাল উত্তোলন ও বিতরণ সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।

সময়ের স্বল্পতার কারণে জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দ পাওয়ার এক কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে উপ-বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উপ-বরাদ্দ পাওয়ার দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অনুকূলে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

চাল বিতরণের সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বা তার প্রতিনিধি এবং ট্যাগ কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। নিবন্ধিত বা কার্ডধারী জেলে ছাড়া অন্য কাউকে ভিজিএফের চাল দেওয়া যাবে না বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান

আদেশে আরও বলা হয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকাল শুরুর আগে, অর্থাৎ ৮ অক্টোবরের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ সম্পন্ন করতে হবে।

বিতরণ শেষে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রকৃত বিতরণ করা ভিজিএফের বিস্তারিত বিবরণ মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়