News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৪৯, ১৬ মার্চ ২০২৬

ঢাকা-মাওয়া ও যমুনা সেতুতে ঈদযাত্রার চাপ

ঢাকা-মাওয়া ও যমুনা সেতুতে ঈদযাত্রার চাপ

ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরমুখো যাত্রা শুরু হয়েছে, যার প্রভাবে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। 

সরকারি ছুটির আগের শেষ কর্মদিবস শেষে সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষ বাড়ি ফেরা শুরু করেছেন।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। তবে সড়কে চলাচল এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। 

সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টার দিকে গাড়ির চাপ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী, সন্ধ্যা এবং আগামীকাল ভোরের দিকে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে। মহাসড়কে নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে দুইটি মোবাইল টিম ও চারটি পেট্রোল টিমসহ মোট ছয়টি দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। 

হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ টি এম মাহামুদুল হক জানিয়েছেন, নিয়মিত টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে এবং চালকদের সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

অপরদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ হাজার ৪৪০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ টাকা। যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্ত দিয়ে ঢাকাগামী ১২ হাজার ৯৮১টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যেখানে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। পশ্চিমপ্রান্ত দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী ১২ হাজার ৪৫৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা।

আরও পড়ুন: বাড়তি ভাড়া ও বেপরোয়া গতিতে বিআরটিএর কঠোর নির্দেশনা

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, ঈদযাত্রায় সেতুর দুই পাশে ৯টি করে মোট ১৮টি টোল বুথ চালু রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দুই পাশেই দুইটি করে বুথ দিয়ে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদাভাবে পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৯৯৮ সালে চালু হওয়ার পর থেকে সেতু কর্তৃপক্ষ নিয়মিত টোল আদায় করে আসছে। পূর্বে কমিউটার সিস্টেম নেটওয়ার্ক (সিএনএস) ব্যবহার করা হলেও ২০২৪ সালের শেষের দিক থেকে চায়না রোড ব্রিজ করপোরেশন এই দায়িত্ব নিয়েছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশে যানজটের শঙ্কা রয়েছে। এলেঙ্গা ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ চলমান থাকার পাশাপাশি চার লেনের উন্নয়ন কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় সড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে যেতে পারে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি ৫০ শতাংশ। সার্ভিস লেন, ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাসের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে এক হাজার পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না এবং ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে নজরদারি থাকবে। জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যাতে মানুষ নির্বিঘ্নভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন যমুনা সেতু দিয়ে গড়ে ১৮ থেকে ২০ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। ঈদযাত্রায় এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এছাড়া চালকের অদক্ষতা, সড়ক দুর্ঘটনা এবং অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে যানজট তৈরি হয়। মহাসড়কে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং জনসচেতনতা বজায় রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়