News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২২:০৫, ১৩ মার্চ ২০২৬

হাদির খুনিদের ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে যা জানালো ভারত

হাদির খুনিদের ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে যা জানালো ভারত

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। 

গত ৭ মার্চ (শনিবার) মধ্যরাতে উত্তর ২৪ পরগণার সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বর্তমানে তাদের ১৪ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ভারতীয় পুলিশ। 

এদিকে, অভিযুক্তদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারত সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ শুরু করেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

তিনি বলেন, এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ইতোমধ্যে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এর বাইরে কিছু বলা সমীচীন হবে না।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, হাদির হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া হবে কি না কিংবা তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে কনস্যুলার অ্যাকসেস দেওয়া হবে কি না। 

জবাবে জয়সওয়াল বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো তথ্য দেওয়ার নেই।

এর আগে গত রবিবার (০৮ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, চাঁদাবাজি ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশি নিজ দেশ থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু

পুলিশ জানায়, শনিবার (০৭ মার্চ) মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭), যার বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলায়, এবং আলমগীর হোসেন (৩৪), যিনি ঢাকার বাসিন্দা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন একসঙ্গে ওসমান হাদিকে হত্যার পর দেশ থেকে পালিয়ে যান। পরে তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেওয়ার পর বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় আসেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।

উল্লেখ্য, শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোড এলাকায় রিকশায় থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে একই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই প্রধানের সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। 

এ বিষয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ডিজিএফআই প্রধান ভারতে এসেছিলেন এবং রাইসিনা ডায়ালগের অবসরে তিনি ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে থাকতে পারেন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বলেও জানান তিনি। 

জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ একই ধরনের অনুরোধ করেছে। ভারতের নিজস্ব প্রয়োজন এবং শোধনাগারের সক্ষমতা বিবেচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোতে বড় আকারে পরিশোধিত পেট্রোপণ্য রফতানি করে থাকে এবং বাংলাদেশের অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধটিও সরকার বিবেচনা করে দেখছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়