নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৫৪, ১৪ আগস্ট ২০২৬

এক্সিলারেট এনার্জির আপত্তিতে আটকে যায় আরামকোর এলএনজি কার্গো

এক্সিলারেট এনার্জির আপত্তিতে আটকে যায় আরামকোর এলএনজি কার্গো

ছবি: সংগৃহীত

তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যে অবশেষে কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালে নতুন এলএনজি কার্গো যুক্ত হওয়ার পর শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। 

বৈরী আবহাওয়া ও কারিগরি জটিলতার কারণে গত কয়েক দিন ধরে চলা নজিরবিহীন জ্বালানি সংকটের পর এই টার্মিনাল চালুর ফলে দেশের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) হারে রিগ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ শুরু করে সামিট। 

প্রতিষ্ঠানটির ঘোষণা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়িয়ে শনিবার রাত ২টার মধ্যে তা প্রায় ৫৫০ এমএমসিএফডিতে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর ফলে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে যে সরবরাহ বিপর্যয় তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দেশের গ্যাসের মোট চাহিদার তুলনায় ঘাটতি পুরোপুরি দূর হবে না এবং মহেশখালীর অপর এলএনজি টার্মিনাল এক্সিলারেট এনার্জি পুরো সক্ষমতায় ফিরতে না পারলে সংকটের স্থায়ী সমাধানও হবে না।

গত তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের মারাত্মক সংকট চলছিল। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিটের টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। মূলত সাগরে বৈরী আবহাওয়া এবং কার্গো জাহাজের সামঞ্জস্যতা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মহেশখালীর উপকূলে এলএনজি খালাস ব্যাহত হয়।

পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরামকোর পাঠানো আল হামরা নামের একটি এলএনজি কার্গো গত কয়েক দিন ধরে বঙ্গোপসাগরে অপেক্ষায় থাকলেও জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় কারিগরি সামঞ্জস্যতার অভাবে সেটিকে সামিটের টার্মিনালে বার্থিং বা ভেড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরিচালনা প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি জাহাজটির উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে ওই জাহাজটি ফেরত পাঠানো হয় এবং এর পরিবর্তে ভিটল এশিয়ার একটি নতুন জাহাজ (বিডব্লিউ লেসমেস) সামিটের টার্মিনালে সফলভাবে যুক্ত হয়।

আরও পড়ুন: আবার বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট

এদিকে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালিত অপর ভাসমান টার্মিনালটি গত ২১ জুলাই সংঘটিত এক অগ্নিদুর্ঘটনার পর থেকে আংশিক সচল ছিল। সেখান থেকে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল। কিন্তু সম্প্রতি এক্সিলারেটের টার্মিনালেও হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। দুই টার্মিনালেই একযোগে বিঘ্ন ঘটায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ দৈনিক ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে যায়, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চরম চাপে ফেলে দেয়।

সামিট গ্রুপের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে নতুন কার্গো থেকে টার্মিনালের মাধ্যমে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। শুরুতে দৈনিক প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে সরবরাহ শুরু হলেও রাত ২টা নাগাদ তা সর্বোচ্চ সক্ষমতা বা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়। এর পাশাপাশি টার্মিনালে আগে থেকে মজুত থাকা গ্যাস থেকেও সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছিল।

অন্যদিকে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটির ত্রুটি দ্রুত নিরসন করে রাতের মধ্যেই পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। সামিট ও এক্সিলারেট উভয় টার্মিনালের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ২৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দেশের দৈনিক চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ায় সারা দেশের শিল্পকারখানা, সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং বাসাবাড়ির রান্নার কাজে তীব্র বিঘ্ন ঘটেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে বাধ্য হয়ে শিল্প খাতে গ্যাস রেশনিং বা সরবরাহ কমিয়ে প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য বরাদ্দ করা হয়। এর ফলে গত দুই দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সামিটের টার্মিনাল সচল হওয়ায় এবং ভিটল এশিয়ার নতুন কার্গো থেকে নিয়মিত এলএনজি খালাস শুরু হওয়ায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শিল্পোৎপাদন ও বিদ্যুৎ সরবরাহে গতিশীলতা ফিরে আসবে। 
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজার ও প্রাকৃতিক আবহাওয়ার ওপর এই ধরনের আমদানি নির্ভরশীলতা দীর্ঘমেয়াদে কমাতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়