আবার বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট
ফাইল ছবি
সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি ও বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের মধ্যেই আবারও যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়েছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১১টার পর কেন্দ্রটির ১ নম্বর ইউনিটে পাম্পসংক্রান্ত যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
মাত্র কয়েকদিন আগে মেরামত শেষে ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরলেও ফের একই ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটির নির্ভরযোগ্যতা এবং উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতের কাজ চলছে এবং সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে প্রায় এক দিনের মধ্যে ইউনিটটি পুনরায় চালু করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন, ১ নম্বর ইউনিটের পাম্পে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে ত্রুটির কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় মেরামতকাজ চলছে।
কর্তৃপক্ষের আশা, শনিবারের মধ্যে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। বন্ধ হওয়ার আগে ১২৫ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতার এ ইউনিট থেকে বাস্তবে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল। ফলে ইউনিটটি বন্ধ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে গ্রিডে প্রায় ৫০ মেগাওয়াটের মতো সরবরাহ কমেছে।
শুক্রবার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্যেও ইউনিট-১-এর উৎপাদন বন্ধ হওয়ার বিষয়টি এবং প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বড়পুকুরিয়ার ১ নম্বর ইউনিটটি এবারই প্রথমবারের মতো এমন সমস্যায় পড়েনি। এর আগে গত ৩১ জুলাই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একই ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। মেরামত শেষে মাত্র দুই দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ২ আগস্ট ইউনিটটি আবার উৎপাদনে ফেরে। তখন ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। কিন্তু উৎপাদনে ফেরার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ১৪ আগস্ট আবারও ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ইউনিটটির যান্ত্রিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চলতি বছরও ইউনিট-১ একাধিকবার যান্ত্রিক সমস্যায় উৎপাদন বন্ধ করেছে। এপ্রিল মাসে বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ার ঘটনাতেও ইউনিটটি বন্ধ হয়েছিল। এর আগে কয়লার সঙ্গে পাথর চলে আসায় বয়লার পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছিল।
বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে হলে তিনটি ইউনিটের সামগ্রিক চিত্রটি সামনে রাখা জরুরি। কেন্দ্রটির মোট স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১ নম্বর ও ২ নম্বর ইউনিটের প্রতিটির ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিটের ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও বেশি আসে সবচেয়ে বড় ৩ নম্বর ইউনিট থেকে। কিন্তু শুক্রবার ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর কার্যত কেন্দ্রটি এখন কেবল ৩ নম্বর ইউনিটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সময় কেন্দ্রটির ইউনিটগুলোতে ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণে স্থাপিত সক্ষমতার তুলনায় বাস্তব উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কম থেকেছে।
আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিং
বর্তমানে কেন্দ্রটির ৩ নম্বর ইউনিট সচল রয়েছে। ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই ইউনিট থেকে শুক্রবার প্রায় ১৭০ থেকে ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে কেন্দ্র সূত্র জানিয়েছে। ফলে ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বড়পুকুরিয়া কেন্দ্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রধান উৎস হয়ে আছে ৩ নম্বর ইউনিটটিই। তবে এই ইউনিটও দীর্ঘ সময়ের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে সচল থাকার ইতিহাস নেই। চলতি বছরের মে মাসে যন্ত্রাংশের ত্রুটির কারণে এটি প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর জুনে আবার উৎপাদনে ফেরে। বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিটটি ২৯ দিন বন্ধ থাকার পর ২৪ জুন পুনরায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে।
এর আগে ৩ নম্বর ইউনিটের দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থাও বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে বিভিন্ন কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যায় ইউনিটটি দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। ওই সময় ২ নম্বর ইউনিটও বহু বছর ধরে অচল থাকায় কেন্দ্রটির পুরো উৎপাদন ব্যবস্থা কার্যত ১ নম্বর ইউনিটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। ২০২৬ সালের এপ্রিল-মে মাসেও ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে গেলে কেন্দ্রটির তিন ইউনিটের কোনোটিই সচল ছিল না এবং উত্তরাঞ্চলের জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে সে সময় বলা হয়েছিল, ইউনিট-১ বন্ধ হলে জাতীয় গ্রিড প্রায় ৫৫–৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল এবং স্থানীয় উৎপাদন উৎস কমে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলে নিম্ন ভোল্টেজ ও সরবরাহ ঘাটতির ঝুঁকি বাড়ছিল।
অন্যদিকে, কেন্দ্রটির ২ নম্বর ইউনিটের সংকট আরও পুরোনো। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। ফলে নামমাত্র ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে কেন্দ্রটির সব ইউনিট একসঙ্গে চালু রেখে পূর্ণ সক্ষমতার কাছাকাছি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ নেই। ২০২৫ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ২ নম্বর ইউনিটের ওভারহোলিং বা সংস্কারকাজের কথা বলা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেটি পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথাও উঠে আসে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থাপিত ক্ষমতা ও বাস্তব উৎপাদনের মধ্যে ব্যবধানটিও গুরুত্বপূর্ণ। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১ নম্বর ইউনিট থেকে বিভিন্ন সময়ে ৫০–৭৫ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মেরামতের পর ইউনিটটি চালু হলে প্রথমদিকে ৭০–৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন হয়েছিল এবং ইউনিটটি সচল রাখতে দৈনিক প্রায় ৭০০–৮০০ মেট্রিক টন কয়লা প্রয়োজন হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধান প্রকৌশলী। পরে মে মাসে ইউনিটটি ৫৫ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিচ্ছিল। অর্থাৎ ইউনিটটির স্থাপিত ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট হলেও দীর্ঘদিনের ব্যবহার, যান্ত্রিক দক্ষতা হ্রাস ও বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বাস্তব উৎপাদন ক্ষমতা তার তুলনায় অনেক কম।
কয়লা সরবরাহ ও কেন্দ্রটির অবস্থানও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কাছাকাছি হওয়ায় স্থানীয় কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রটি ২০০৬ সালে দুটি ১২৫ মেগাওয়াট ইউনিট নিয়ে যাত্রা শুরু করে; পরে ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিট যুক্ত হয়। ফলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়ায় ৫২৫ মেগাওয়াটে। স্থানীয় কয়লা ব্যবহার করে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
বড়পুকুরিয়ার উৎপাদন কমে গেলে এর প্রভাব শুধু দিনাজপুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষায় কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতীতে বড় কোনো ইউনিট বন্ধ হয়ে গেলে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় লোডশেডিং ও ভোল্টেজ সমস্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে নেসকোর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানিয়েছিলেন, বড়পুকুরিয়া থেকে সরবরাহ কমে গেলে ঘাটতি পূরণে দূরবর্তী অঞ্চল থেকে বিদ্যুৎ আনতে হয়, যার ফলে কিছু এলাকায় নিম্ন ভোল্টেজ ও সরবরাহের মানে সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই ধরনের পরিস্থিতিতে কৃষির সেচ, শিল্পকারখানা ও আবাসিক গ্রাহক সবক্ষেত্রেই চাপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
এবারের পরিস্থিতিতে অবশ্য কেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিট সচল থাকায় পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়নি। বর্তমানে ওই ইউনিট থেকে ১৭০–১৮০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে। তবে ১ নম্বর ইউনিটের ৫০–৫৫ মেগাওয়াট উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটির মোট সরবরাহ আরও কমেছে। বিশেষ করে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধান যখন এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি, তখন বড়পুকুরিয়ার মতো স্থানীয় উৎপাদনকেন্দ্রের প্রতিটি মেগাওয়াট সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জুনের শেষ দিকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তখন জাতীয় পর্যায়ে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৩৯ মেগাওয়াট উৎপাদন ঘাটতি ছিল এবং কিছু এলাকায় লোডশেডিং অব্যাহত থাকার আশঙ্কা ছিল।
ফলে বড়পুকুরিয়ার ১ নম্বর ইউনিটের এবারের ত্রুটিকে নিছক একটি বিচ্ছিন্ন যান্ত্রিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ কম। একই ইউনিটে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার উৎপাদন বন্ধ হওয়া, ২ নম্বর ইউনিটের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এবং ৩ নম্বর ইউনিটেরও অতীতে দীর্ঘমেয়াদি মেরামতের প্রয়োজন হওয়া সব মিলিয়ে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং পুরোনো ইউনিটগুলোর সময়মতো সংস্কারকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করা হয়।
এদিকে শুক্রবার ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর দ্রুত মেরামত শেষ করে শনিবারের মধ্যে সেটিকে আবার জাতীয় গ্রিডে ফেরানোর লক্ষ্য নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইউনিটটি নির্ধারিত সময়ে চালু হলে কেন্দ্রের উৎপাদন আবার কিছুটা বাড়বে এবং উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ কমাতে তা সহায়ক হবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একই ইউনিটে একাধিকবার ত্রুটি দেখা দেওয়ায় শুধু তাৎক্ষণিক মেরামত নয়, ইউনিটটির দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি সক্ষমতা যাচাই এবং স্থায়ী সমাধানের বিষয়টিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ ৫২৫ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতার এই কেন্দ্রের বাস্তব উৎপাদন যদি বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সীমিত থাকে, তাহলে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে বড়পুকুরিয়ার কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পূরণ করা কঠিন হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








