নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৩৪, ১২ আগস্ট ২০২৬
আপডেট: ১৭:৩৫, ১২ আগস্ট ২০২৬

আগামী দুই বছরে ঢাকার চেহারা পাল্টে দেওয়ার ঘোষণা ডিএসসিসি প্রশাসকের

আগামী দুই বছরে ঢাকার চেহারা পাল্টে দেওয়ার ঘোষণা ডিএসসিসি প্রশাসকের

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা শহরের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে নগরীর দৃশ্যপট বদলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। 

বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি নগর ব্যবস্থাপনার বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং তা উত্তরণের রূপরেখা তুলে ধরেন। 

ডুরার সভাপতি শাহজাহান মোল্লার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরাও অংশ নেন। 

প্রশাসক স্পষ্ট করেছেন যে, শুধু সিটি করপোরেশনের একার প্রচেষ্টায় এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়, বরং নাগরিক সচেতনতা এবং ওয়াসা, রাজউক ও বিদ্যুৎ বিভাগের মতো সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।

শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা ফুটপাতে হকারদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশাসক কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে রাস্তার ওপর হকারদের ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। তবে ফুটপাত প্রশস্ত হলে নির্দিষ্ট অংশে তাদের জন্য বসার সুযোগ রাখা হতে পারে। হকারদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে পরিচয়পত্র ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত এলাকার বাইরে ব্যবসা করার সুযোগ থাকবে না। তাদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে শুক্রবার ও শনিবার হলিডে মার্কেট এবং অফিস সময় শেষ হওয়ার পর মতিঝিল এলাকায় নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নির্ধারিত স্থানে হকারদের জন্য আধুনিক টয়লেট ও পরিচ্ছন্নতার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

আরও পড়ুন: রাজধানীর ২০৪ হটস্পটে ১৩৮৭ ছিনতাইকারী

যানজট নিরসনে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়ে প্রশাসক একটি অঞ্চলভিত্তিক ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়েছেন। নির্বিচারে রিকশা চলাচল বন্ধ করে নির্দিষ্ট অঞ্চলের রিকশা নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ করার পরিকল্পনা চলছে। এছাড়া যানজটপ্রবণ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, যা চূড়ান্ত হলে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট, ঢাকা কলেজ ও গ্রিন রোড এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা এক-দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয়। তবে তাৎক্ষণিক জলাবদ্ধতা নিরসনে পর্যাপ্ত পাম্প কেনা হয়েছে, যার ফলে বৃষ্টির পানি জমার স্থায়িত্ব কয়েক দিন থেকে কমিয়ে কয়েক ঘণ্টায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে ড্রেনে পলিথিন ও গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলার প্রবণতা পানি নিষ্কাশনকে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। দোকানিদের দোকানের সামনে বর্জ্যের বিন বা বালতি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না, যা এলাকাকে পুনরায় নোংরা করে তুলছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও মশা নিধনের বিষয়ে নাগরিকদের সচেতনতাকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের কর্মীরা প্রতিটি ব্যক্তিগত আঙিনায় প্রবেশ করতে পারেন না। তাই মশার লার্ভা রোধে বাড়ির মালিক বা বাসিন্দাদের নিজেদেরই দায়িত্ব নিতে হবে।

একইসাথে তিনি রাজস্ব আদায়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং নিজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য সরকারের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির পর সময়মতো মেরামত না হওয়ায় সিটি করপোরেশনকে প্রায়ই জনরোষের মুখে পড়তে হয়, এই সমন্বয়হীনতা কাটাতে তিনি নগরসেবার সাথে যুক্ত অন্যান্য সংস্থাগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে কাজ করছেন। 

শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণমাধ্যম ও জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা এবং সঠিক সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আগামী দুই বছরে ঢাকা শহরকে একটি বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়