News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:২৩, ২১ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে দূতাবাসের বিশেষ সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে দূতাবাসের বিশেষ সতর্কতা

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা ও নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। ভ্রমণকালীন সম্ভাব্য জটিলতা, বিশেষ করে হঠাৎ সৃষ্ট চিকিৎসা ব্যয় বা ভ্রমণ বিঘ্ন মোকাবিলায় পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (২১ মার্চ) দূতাবাসের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত এক বার্তায় এই বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

দূতাবাসের বার্তায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে তাকে অবশ্যই সম্ভাব্য সব ব্যয় বহনের সক্ষমতা রাখতে হবে। এর মধ্যে কেবল যাতায়াত বা আবাসন খরচ নয়, বরং আকস্মিক ভ্রমণ বিঘ্ন কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির ব্যয়ভার মেটানোর মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সংগতি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীদের এমন সব প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ওই ব্যক্তি কোনোভাবেই সেদেশের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না।

আবেদনকারীদের উদ্দেশ্যে দূতাবাস জানায়, ভিসা ইন্টারভিউতে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। আবেদনকারীর বর্তমান আর্থিক অবস্থা এবং সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারে এমন নথি প্রদর্শন করতে হবে। কনসুলার কর্মকর্তারা আবেদনকারীর স্বাবলম্বিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন যাতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কেউ আর্থিক সংকটে পড়ে দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি না করেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশসহ কিছু দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে দূতাবাস। বার্তায় বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, ভুয়া নথি উপস্থাপন করা সরাসরি প্রতারণার শামিল। কেউ যদি ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো জাল কাগজপত্র বা ভুল তথ্য প্রদান করেন, তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ভিসার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এ ধরনের জালিয়াতির দায়ে একজন আবেদনকারীকে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের ক্ষেত্রে মার্কিন ইমিগ্রেশন বিভাগ তাদের আর্থিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ঢাকার দূতাবাসের এই বার্তা মূলত সেই বৈশ্বিক নীতিরই অংশ। বিশেষ করে করোনাত্তর পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক ভ্রমণ ব্যয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা খরচের ঊর্ধ্বগতি এবং অভিবাসন নীতির কঠোরতার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সতর্কতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-এ চিকিৎসা ব্যয় বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল হওয়ায় পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতি না থাকলে ভ্রমণকারীরা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নির্দেশনাগুলো মূলত ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি অনিয়ম প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়