মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে ঐক্যের আহ্বান স্পিকারের
ছবি: সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি উল্লেখ করে তা অর্জনে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার তা আজও পূর্ণতা পায়নি। এটি কেবল একটি গোষ্ঠীর কাজ নয়, বরং রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে এই লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে আসতে হবে।
বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট টেনে তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা আমাদের জন্য চিন্তার কারণ। যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়ে, যা আমাদের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি বা সরবরাহ ঘাটতির মতো চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত দ্রুত বন্ধ হয়।
আরও পড়ুন: জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত
এদিকে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে রাজধানীসহ সারাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। শনিবার সকালে রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করেন।
ঈদের এই প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা প্রদান করা হয় এবং বিশেষ মোনাজাতে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং বিশ্বশান্তি কামনা করা হয়। নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত মুসল্লিদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
অন্যদিকে, রাজধানীর মিরপুরে মনিপুর গার্লস হাইস্কুল মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। নামাজ শেষে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক বৈষম্য দূর করে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণই হোক এবারের ঈদের অঙ্গীকার।
সারাদেশের বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ও দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে স্মরণকালের বৃহত্তম জামাতগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। নামাজ শেষে পাড়া-মহল্লায় কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








