বিশেষ ফ্লাইটে ইরান থেকে দেশে ফিরছে ২০০ বাংলাদেশি
ফাইল ছবি
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। উচ্চপর্যায়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের পর প্রথম ধাপে আগামীকাল ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) বিশেষ ফ্লাইটে প্রায় ২০০ জন বাংলাদেশিকে আজারবাইজানের রাজধানী বাকু হয়ে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, ১৯ মার্চ আজারবাইজানের রাজধানী বাকু হয়ে একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে এই নাগরিকদের ঢাকায় আনা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে বাংলাদেশিদের সড়কপথে ইরান থেকে ইরাক সীমান্ত অতিক্রম করে আজারবাইজানে নেওয়া হবে। এরপর বাকুর হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের তদারকির জন্য তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হককে আজারবাইজানে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফিরতে আগ্রহী নাগরিকদের নিরাপদে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করে সীমান্ত পারাপার এবং নিরাপদে পৌঁছানোর সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ১৭ দিনে ৫২৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ইরান থেকে বাংলাদেশিদের ফেরানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী, ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক, দূতাবাসের কূটনীতিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রায় ৩০০ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পুরো প্রত্যাবাসন কার্যক্রম দুই ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ২০০ জন সাধারণ নাগরিককে আনা হলেও, এই দফায় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবার অন্তর্ভুক্ত থাকছেন না। পরবর্তী ধাপে বাকি ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ মাসের শুরুতে আজারবাইজানে ইরানের দূতাবাসের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছে তুরস্কে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, যা আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে। পাশাপাশি ভিসা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সহজ করতে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনও কাজ করছে।
ইতোমধ্যে নয়াদিল্লিতে আজারবাইজান দূতাবাসের মাধ্যমে দুই ধাপে ২০২ এবং ৭২ জনের অন-অ্যারাইভাল ভিসার আবেদন অনুমোদিত হয়েছে, ফলে মোট ২৭৪ জন এই সুবিধার আওতায় আসছেন। এছাড়া যাদের পাসপোর্ট নেই, তাদের জন্য তেহরানে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হয়েছে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে দেশে ফিরতে পারেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক এবং ঢাকা-নয়াদিল্লি থেকে পাঠানো কর্মকর্তা-দল একযোগে কাজ করে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করছেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








