News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৫০, ১৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ১৭ দিনে ৫২৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ১৭ দিনে ৫২৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল

ছবি: সংগৃহীত

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথে। মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত ১৭ দিনে এই বিমানবন্দর থেকে মোট ৫২৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। মূলত নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় এই নজিরবিহীন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিমানবন্দর ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি ফ্লাইট বাতিলের মধ্য দিয়ে এই সংকটের শুরু হয়। এরপর ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ৪ মার্চ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৬টি করে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হয় ২ মার্চ।

সংকট অব্যাহত থাকায় ১১ মার্চ ২৭টি, ১২ মার্চ ২৮টি, ১৩ মার্চ ২৫টি, ১৪ মার্চ ২৬টি এবং ১৫ মার্চ ২৩টি ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় যুক্ত হয়। সর্বশেষ গত রোববার (১৫ মার্চ) রাত ১২টার পর থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত আরও ২৮টি ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে। এদিন কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৮টি, গালফ এয়ারের ২টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

আরও পড়ুন: শাহজালালে আরও ২৩ ফ্লাইট বাতিল

টানা ফ্লাইট বাতিলের ফলে সবচেয়ে বেশি মানবিক ও আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী কর্মীরা। বিমানবন্দরে এসে শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে শত শত যাত্রীকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। অনেক কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকায় তারা কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত এই যাত্রীদের অনেকেরই আশঙ্কা, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তারা চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর তাদের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না। বেবিচক কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, যুদ্ধাবস্থা শিথিল হওয়া মাত্রই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্লাইট শিডিউল পুনর্বিন্যাস করে যাত্রীদের পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক এই আকাশপথে অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়