দুই বাজেট অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার তৃতীয় বৈঠকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশকে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত করার প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট সংক্রান্ত ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট সংক্রান্ত ‘নির্দিষ্টকরণ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এই দুটিকে আইনে রূপান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।
সংবিধানের ৯১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অর্থবছরে অনুমোদিত ব্যয় অপর্যাপ্ত হলে বা নির্ধারিত সীমার বেশি ব্যয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে ‘সম্পূরক আর্থিক বিবৃতি’ সংসদে উপস্থাপন করতে হয়।
অন্যদিকে, ৮৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতি অর্থবছরের অনুমিত আয়-ব্যয়ের ‘বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি’ সংসদে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে বর্তমানে জাতীয় সংসদ ভেঙে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে এই বিবৃতিগুলো সংসদে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসব অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এখন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে সেগুলোকে স্থায়ী আইনে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত বিলের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
আরও পড়ুন: ঈদে নিরাপত্তা ও ধর্ষণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
এদিনের বৈঠকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) বহুপক্ষীয় যৌথ বিবৃতি উদ্যোগের অধীনে ‘উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ সহজীকরণ চুক্তিতে’ বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই চুক্তিতে যোগদানের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণ ও প্রক্রিয়া সহজ করা। এর মাধ্যমে বিনিয়োগসংক্রান্ত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে এবং নিবন্ধন বা অনুমোদনের ক্ষেত্রে একাধিক আবেদন বা জটিলতা এড়িয়ে চলা সম্ভব হবে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই চুক্তিতে স্বাক্ষরের ফলে বাজারে প্রবেশাধিকার কিংবা বিনিয়োগকারী ও রাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নতুন কোনো কঠিন প্রতিশ্রুতি বা বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে না। বরং এটি বিনিয়োগসংক্রান্ত বিধি-বিধান আধুনিকায়ন এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীদের তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণে সহায়তা করবে।
সরকার আশা করছে, এই আইনি প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হলে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একটি ইতিবাচক ও আকর্ষণীয় ভাবমূর্তি বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত হবে। এটি দেশে একটি টেকসই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








